করোনা আবহে দূষণ রুখতে সমস্ত রকমের বাজিতে নিষেধাজ্ঞা আদালতের

ওয়েব ডেস্ক, ৯ নভেম্বর— কালীপুজোয় বাংলায় আগেই বাজি ফাটানো নিষিদ্ধ করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। অপরদিকে, বায়ুদূষণে জর্জরিত দিল্লিতে উৎসবের মরসুমে সমস্তরকম বাজির ব্যবহার বন্ধে দিনকয়েক আগেই জাতীয় পরিবেশ আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। পরিবেশ আদালতে মামলায় দিল্লি ছাড়াও হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানের মতো রাজ্যে ৭ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সবরকম বাজি নিষিদ্ধ করার আবেদন করা হয়েছিল। আর সেই মামলার সূত্রেই দিল্লিতে আজ, সোমবার থেকে সমস্তরকমের বাজি নিষিদ্ধ করল জাতীয় পরিবেশ আদালত। যাবতীয় বাজি বিক্রি ও পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নির্দেশ বলবৎ থাকবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে, একইসঙ্গে রায়ে যে সমস্ত শহরে দূষণ কম, সেখানে দীপাবলির সময় দু’ঘণ্টার জন্য পরিবেশবান্ধব বাজি পোড়ানোর অনুমতি দিয়েছে জাতীয় পরিবেশ আদালত। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিকে বাজি পোড়ানোর সময় নির্দিষ্ট করে দিতে হবে বলে রায়ে জানানো হয়েছে। এই নির্দেশ মান্য করেই হরিয়ানা সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, দীপাবলি ও গুরুপরবের সময় রাত ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানো যাবে। এমনকী বড়দিন ও নববর্ষের রাতেও ১১টা ৫৫ থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানোর অনুমতি দিয়েছে হরিয়ানার বিজেপি সরকার। তবে, মুম্বইতে সমস্ত ধরনেরই বাজি নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। এর আগে করোনা পরিস্থিতির কারণে বাজি বিক্রি ও পোড়ানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল রাজস্থান সরকার। মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌত জানিয়েছিলেন, করোনা মহামারীর সময় মানুষের জীবন রক্ষা করাই সরকারের কাছে এখন সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সেই কারণেই দূষণ এড়াতে দীপাবলিতে বাজি বিক্রি ও পোড়ানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ বার কালীপুজোয় সবরকম বাজির উপরই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। প্রতি বছর কালীপুজো-দেওয়ালিতে শহর ও শহরতলির আবাসনের একটা বড় অংশে নিষিদ্ধ শব্দবাজি ফাটানোর অভিযোগ ওঠে। এ বছর যাতে কোনও ভাবেই কোনও রকম বাজি না-পোড়ানো হয়, তা নিশ্চিত করতে আবাসনগুলিকে নিয়ে আলাদা বৈঠক করেছে পুলিশ ও পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। তবে সরকারি গাইডলাইন আসার আগেই শহরের অনেক আবাসনের কর্তারা নিজে থেকেই বলছেন, বাজি পোড়ানো বন্ধ করতে তাঁরা নিজেরাও সতর্ক হচ্ছেন। মিটিং করে সব আবাসিককে বলে দেওয়া হবে কোনও রকম বাজি না-ফাটাতে। বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হবে আবাসনের নোটিস বোর্ডে। অনেক আবাসন কর্তৃপক্ষ আবার ছাদের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন। কোনও আবাসিক যদি নিয়ম না-মানেন? এ রকম ঘটলে তাঁরাই পুলিশ ডাকবেন বলেও আশ্বাস দিচ্ছেন আবাসনের কর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *