কালিয়াচকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির, হিন্দু মেয়ের বিয়ে দিলেন মুসলিম যুবকরা

মালদা, ১২ ডিসেম্বর— মানুষের মধ্যে বিভেদের বীজ বপন করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বেশকিছু সাম্প্রদায়িক শক্তি। তার মাঝে এক হিন্দু মেয়ের বিয়ে দিয়ে সাম্প্রদায়িক  সম্প্রীতির নজির গড়লেন কালিয়াচকের বেশ কিছু যুবক। রীতিমতো হিন্দু শাস্ত্রীয় বিধান মেনে জাঁকজমক সহকারে হয়েছে সেই বিয়ের অনুষ্ঠান।  এমনকি নিমন্ত্রিত অতিথীদের জন্য ভুরিভোজের ব্যবস্থাও তাঁরা করেছিলেন। তাঁদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কালিয়াচকের সমস্ত স্তরের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ।

কালিয়াচকের চরি অনন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দৌলতটোলা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন বিশ্বনাথ মণ্ডল। প্রায় ১৮ বছর আগে তিনি মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই মেয়েকে নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েন স্ত্রী রচনা মণ্ডল। কৃষি শ্রমিকের কাজ করে দুই মেয়েকে বড়ো করে তোলেন তিনি। কিন্তু মেয়েরা বড়ো হলেও কীভাবে তাঁদের বিয়ে দেবেন, সেই চিন্তাতেই তাঁর রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছিল। প্রতিবেশীদের সাহায্য নিয়ে এর আগে বড়ো মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু চিন্তায় ছিলেন ছোট মেয়ের বিয়ে নিয়ে।  ছোট মেয়ে রিঙ্কির জন্য একজন পাত্রের সন্ধানও পান রচনাদেবী। কিন্তু কন্যদায় থেকে মুক্ত হবেন কীভাবে। তখনই তিনি যোগাযোগ করেন গ্রামের যুবক আবদুল্লা, ইলিয়াস, আলমগির হাবিবদের সঙ্গে। টাকার অভাবে গ্রামের এক অসহায় মেয়ের বিয়ে হবে না। তা মেনে নিতে পারেননি ওই যুবকরা। নিজেরাই বিয়ের জন্য সমস্ত টাকা দেন। সেইসঙ্গে কিছু চাঁদাও তোলেন। সেই টাকা দিয়েই শুক্রবার রাতে যথারীতি বিয়ে হয়েছে রিঙ্কির। রাত জেগে বিয়ের সমস্ত আয়োজন থেকে শুরু করে অতিথী আপ্যায়ন করেছেন মুসলিম ওই যুবকরা।

আবদুল্লা বলেন, রিঙ্কিরা  সত্যি বড়ো অসহায়। তাই তাঁর বিয়েতে আমরা সাহায্যের হাত বাড়িতে দিয়েছি। ছাদনাতলা থেকে শুরু করে অতিথী আপ্যায়ন সবকিছুই নিজেদের হাতে করেছি। অ আমাদের বোনের মতো। দাদা হয়ে বোনের বিয়ে দেওয়া কর্তব্য। আমরা সেই কর্তব্য পালন করেছি।

পাত্রীর মা রচনাদেবী বলেন, খুব কষ্ট করে বড়ো মেয়েটার বিয়ে দিয়েছিলেম। কিন্তু ছোট মেয়ের বিয়ে কীভাবে দেব তা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। শেষ পর্যন্ত গ্রামের ওই ছেলেগুলো এগিয়ে আসায় মুশকিল আসান হয়েছে। শুক্রবার রাতে হিন্দুমতে মেয়ের বিয়ে হয়েছে। জাতধর্ম না দেখে কয়েকটি ছেলে যেভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, তাতে আমি গর্বিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *