কুমারগঞ্জ কাণ্ডে দশদিনেও চার্জ শিট পেশ করতে পারল না পুলিশ

বালুরঘাট, ১৬ জানুয়ারি– কুমারগঞ্জে কিশোরী খুনের দশদিন পরেও চার্জশিট জমা দিতে পারলো না পুলিশ প্রশাসন। রিমান্ড শেষের একদিন আগে মূল অভিযুক্ত সহ তিনজনকে আদালতে পেশ করে কুমারগঞ্জ পুলি্র। ঘটনার পর জেলা জুড়ে আন্দোলনের চাপে পড়ে পুলিশ সুপার সাদিনে চার্জশিট জমা করার কথা বললেও এদিন অভিযুক্তদের বিনা চার্জশিটে আদালতে পেশ করায় পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। বুধবার বালুরঘাট আদালতের ফার্স্টট্রাক কোর্টের বিচারক দুলাল কর অভিযুক্তদের তিনদিনের জেলা হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও এদিন নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থনের আইনজীবী দেবার ক্ষমতা নেই বলে আদালতে স্বীকার করেছে অভিযুক্তরা। এরপর বিচারক ডি.এস.এস.ও’কে নির্দেশ দিয়েছেন অভিযুক্তদের হয়ে আইনজীবীর ব্যবস্থা করতে। আগামী ১৭ই জানুয়ারি তাদের পুনরায় বালুরঘাট জেলা আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
৬ই জানুয়ারি সকালে কুমারগঞ্জ ব্লকের সাফানগরে কালভার্টের নিচ থেকে থেকে উদ্ধার হয় কিশোরীর মৃতদেহ । প্রকাশ্যে আসে গণধর্ষণের পর গলার নলি কেটে খুন করে পেট্রোল ঢেলে পোড়ানোর ঘটনা। দোষীদের ফাঁসির সাজার দাবি জানিয়ে পথসভা থেকে শুরু করে বিক্ষোভ অবরোধ চলে জেলায়। প্রথমে এই মামলায় গণধর্ষণ, খুন ও প্রমাণ লোপাটের ধারায় মামলা করলেও পরবর্তীতে জাতি আয়োগের কড়া নির্দেশের পরে পুলিশ তৎপর হয়ে ওই মামলায় এসসি.এসটি ধারা যুক্ত করে । শুধু তাই নয় দুই দফায় তদন্তকারী অফিসার সঞ্জয় মুখার্জ্জী এবং সুকুমার মিশ্রকে সরিয়ে ওই তদন্তের দায়িত্ব দেয় ডিএসপি (ডিইবি) বিনোদ ছেত্রীকে। তারপরেও এই মামলায় চার্জশিট জমা না করেই অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করা নিয়ে পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠেছে।
বালুরঘাট জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবী ঋতব্রত চক্রবর্ত্তী জানিয়েছেন, তিন অভিযুক্তকে এদিন আদালতে পেশ করে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ । ধৃতদের তিন দিনের জেলা হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আগামী ১৭ তারিখে তাদের পুনরায় আদালতে তোলা হবে । একই সাথে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আইনজীবী জোগাড় করতে ডি.এল.এস.ও’কে অর্ডার করেছেন বিচারক।