দশটি শিল্পের জন্য ১.৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করল কেন্দ্রীয় সরকার

ওয়েব ডেস্ক, ১২ নভেম্বর–প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এ দিন ১০টি শিল্পক্ষেত্রকে প্রোডাকশন-লিঙ্কড ইনসেন্টিভ স্কিম  বা উৎপাদন-ভিত্তিক উৎসাহ ভাতা প্রকল্পের আওতার আনার সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী পাঁচ বছর ওই উৎসাহ ভাতা দেওয়া হবে।

গত মার্চ মাসে শুরু করা ওই উৎসাহ ভাতা প্রকল্পের সুবিধা এ বার গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ, টেক্সটাইল, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ইস্পাত, ওষুধ প্রভৃতি শিল্পও পাবে। প্রোডাকশন-লিঙ্কড ইনসেন্টিভ স্কিমে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার প্রথম শর্তই হল, ২০১৯-২০ অর্থবছরের থেকে বেশি পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি করতে হবে। এ ছাড়া, শিল্পক্ষেত্র ভেদে বার্ষিক বিক্রির ন্যূনতম গণ্ডিও রয়েছে। অতিরিক্ত বিক্রির ৪ শতাংশ – ৬শতাংশ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আর্থিক ইনসেন্টিভ হিসাবে দেবে কেন্দ্রীয় সরকার।
 আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে দেশে শিল্পক্ষেত্রের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে এবং সেই সঙ্গে কর্মসংস্থান তৈরি করতে গত মার্চ মাসে এই প্রোডাকশন-লিঙ্কড ইনসেন্টিভ স্কিমের ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার। বর্তমানে দেশের মোট জিডিপির ১৬ শতাংশ আসে ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্র থেকে। মোদী সরকার এই অংশীদারিত্ব আরও বাড়াতে চায়। সেই লক্ষ্যে প্রাথমিক ভাবে এপ্রিল ও জুলাই মাসে যথাক্রমে মোবাইল হ্যান্ডসেট এবং চিকিৎসার যন্ত্রপাতি তৈরিকে পিএলআই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়। বুধবার ওই তালিকায় আরও ১০টি শিল্পক্ষেত্র যোগ করা হল।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান, পিএলআই স্কিমে নতুন ১০টি শিল্পক্ষেত্রকে যোগ করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এ দিন আরও একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেটা হল, ওয়েস্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট, স্কুল-কলেজ-হাসপাতাল তৈরির মতো সামাজিক পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রেও ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং-এর সুবিধা দেওয়া হবে। এতদিন কেবল সড়ক নির্মাণ, বিমান পরিষেবা প্রভৃতি অর্থনৈতিক পরিকাঠামো প্রকল্পেই ওই আর্থিক সুবিধা দেওয়া হতো।
সীতারামন বলেন, সামাজিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার মোট প্রকল্প খরচের ৩০ শতাংশ এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার অথবা মন্ত্রক আরও ৩০ শতাংশ অর্থ দেবে। বাকি ৪০ শতাংশ মূলধন আনতে হবে প্রকল্পের বেসরকারি উদ্যোগপতিকে।খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণকেও নতুন পিএলআই স্কিমের আওতায় আনার জন্য মোদী সরকারের প্রশংসা করেন গোদরেজ গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান আদি গোদরেজ। তাঁর কথায়, এর ফলে দেশের খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পে বিরাট পরিবর্তন আসবে। তিনি বলেন, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ফল, সবজি, দুধ ভারতে তৈরি হয়। কিন্তু ওই উৎপাদনের মাত্র ৭শতাংশ আমরা প্রসেস করি। নতুন পিএলআই স্কিমে এই ক্ষেত্রে অনেক নতুন দেশি, বিদেশি বিনিয়োগ আসবে বলেই আমার বিশ্বাস।’ পিএলআই প্রকল্প সম্প্রসারণের ফলে দেশের শিল্পোৎপাদনে, বিশেষ করে ইস্পাত শিল্পে, গতি ফিরবে বলে মনে করেন টাটা স্টিলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর টিভি নরেন্দ্রন। নতুন পিএলআই প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির শিল্পসংস্থাগুলির জন্য। গত দু’বছর ধরে মূহ্যমান দেশের গাড়ি শিল্প এর ফলে অনেকটাই চাঙা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস, দেশের শিল্পক্ষেত্রকে চাঙা করতে এই উৎসাহ ভাতা প্রকল্প অনেক বেশি কার্যকরী হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *