বৈশাখ মাসেই বিশেষ পুজো হয় জহরা মায়ের মন্দিরে

মালদা শহর থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার
দূরে ইংরেজবাজার থানার গোপালপুর এলাকা। এখানেই রয়েছে
ঐতিহ্যবাহী জহরা কালী মায়ের মন্দির। জহরা মন্দির বলা হলেও
আদতে এটি চন্ডী মন্দির। বলা হয়, সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন
এক সময় জেলায় একাধিক চন্ডী মন্দির তৈরি করেছিলেন। তাদের
মধ্যে এই মন্দিরটিও অন্যতম। তবে মন্দিরের গায়ে পাথরের
ফলক আছে, তাতে দেখা যায় যে প্রায় দুই শতাধিক বছর আগে
সাধক ছল্ব তেওয়ারী এখানে গড়ের ওপর জহরা চন্ডী মাতার বেদী
প্রতিষ্ঠা করে পূজা শুরু করেন। তার প্রায় একশো বছর পরে ১২১৩
সালে আর এক সাধক হীরারাম তেওয়ারী এখানে সাধনায় সিদ্ধিলাভ
করে দৈব দর্শন করেন। সেই দৈব দর্শন অনুযায়ীই মায়ের মূর্তির
রূপরেখা তৈরি করেন এক বৈশাখ মাসে। ঘন লাল রঙে রাঙানো এক
বিশাল ঢিবি রয়েছে। আর তার ওপরে মায়ের মুখের কল্পনায় এক
মুখোশ। এই হচ্ছে এখানকার দেবী মূর্তি মূল মুর্তির দুপাশে এমন
আরো কিছু মুখোশ দেখা যায়, সেই সঙ্গে গর্ভগৃহে আছে শিব এবং
গণেশের মূর্তিও। ওই তেওয়ারী সাধকদের পরবর্তী প্রজন্মই
এখানে বংশানুক্রমে পুজো করে আসছেন এখনো
এখানকার বৈশিষ্ট্য হলো, রাতে কোনো পূজা হয় না। দিনের বেলায়
শুধু শনি ও মঙ্গলবার। ওই দুদিন বেশ ভীড় হয়। ভক্তদের বিশ্বাস
মায়ের মন্দিরে শ্রদ্ধা সহকারে পুজো দিয়ে কোনো কিছু প্রার্থনা
করলে তাঁর মনস্কামনা অবশ্য পূরণ হয়। এই বিশ্বাস থেকেই শুধু
জেলা নয়, বাইরে থেকেও অগণিত ভক্ত এখানে আসেভ। মায়ের
প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বৈশাখ মাসে। এই কারণে এই মাসে বিশেষ পুজো
হয়ে থাকে। বসে বিরাট মেলা।

এক সময় যোগাযোগের জন্য ভক্তদের সমস্যার মুখে পড়তে হত।
শহর থেকে ঘোড়া গাড়িতে চেপেই যেতে হত মন্দিরে। এখন অবশ্য
যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটাই সহজ হয়েছে। শহর থেকে সরাসরি
টোটো চেপেই যাওয়া যায় মন্দির দর্শনে।