মালদা সফরে শুভেন্দুকে বাচ্চা ছেলের সঙ্গে তুলনা ফিরহাদের

মালদা, ২১ জানুয়ারি—- গতকালই মমতাকে পঞ্চাশ হাজারের বেশি ভোটে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল তথা বর্তমান বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সেই চ্যালেঞ্জের পরেই শুভেন্দুকে বাচ্চা ছেলে বলে কটাক্ষ করলেন তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম। এদিন সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা করতে মালদায় এসেছিলেন তিনি। এছাড়াও উত্তর দিনাজপুর জেলায় যাওয়ার আগেই তিনি মালদায় এসে দাপুটে রাজনীতিবিদ শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।

মালদা সহ রাজ্যের ছয়টি জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মাস কয়েক আগে তাঁকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরেই কার্যত তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর। লোকসভা ভোটের গেরুয়া শিবিরের অভাবনীয় সাফল্যের পর অধিকারী পরিবারের সঙ্গে শাসক দলের বিরোধ প্রকাশ্যে এসে পড়ে। দলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্ব বাড়তে থাকার সঙ্গে সঙ্গেই শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের প্রতি আক্রমণ শানাতে থাকেন। মাস দুয়েক আগে তিনি সরকারি সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেন। সেইসঙ্গে ছেড়ে দেন তৃণমূলের বিধায়ক পদ। পদত্যাগ করেন তৃণমূল থেকেও। এরপরেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজ্য জুড়ে শুরু হয় জল্পনা। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত শুভেন্দু যোগ দেন গেরুয়া শিবিরে। মালদা জেলার পর্যবেক্ষক থাকার সুবাদে এই জেলায় তাঁর বহু অনুগামী রয়েছে। ভোটের মুখে তাঁরা যেন শাসকদলের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়, তার জন্য এখন থেকেই বিভিন্ন জেলায় শুভেন্দুর সংস্পর্শে আসা নেতাদের মগজধোলাই করার জন্য জেলা সফর শুরু করেছেন বর্তমান তৃণমূলের কাণ্ডারিরা।

সেই সফরের অঙ্গ হিসেবেই মঙ্গলবার মালদা ও উত্তর দিনাজপুর জেলা সফরে আসেন  তৃণমূলের রাজ্যনেতা ফিরহাদ হাকিম। সকালে জেলার নেতাদের তিনি একপ্রস্থ বৈঠক করেন। দলের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পগুলিকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার নির্দেশ দেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাফ লাখ ভোটে হারাবেন বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।  সেই কথা জদি রাখতে হয়, তবে ওকে রাজনীতি ছেড়ে দিতে হবে। ও বাচ্চা ছেলে। সাম্প্রদায়িক দলে নাম লিখিয়ে ভুল করেছে। মত পরিবর্তন করতে পারত। হঠাৎ ও যেভাবে ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা করে ফেলল, তাতে ওকে রাজনীতিটাই ছেড়ে দিতে হবে। ওঁর সঙ্গে দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি।  শুভেন্দু ভুল করছে। কালীদাসের মতো কাজ করছে সে। যে ডালে বসেছিল, সেই ডালই কেটে ফেলতে উদ্যাত হয়েছে। কেন সে এমনটা করছে, তা জানি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *