লকডাউনের মধ্যে উৎসবের মেজাজে সাধারণ মানুষ

বালুরঘাট, ২৮ মার্চ– দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী করোনা মোকাবিলায় এলাকাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও তাতে কর্ণপাত করছেন না দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাবাসী। বিশ্বজুড়ে ক্রমাগত বেড়ে চলা করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তারপরেও রাজ্যের জারি করা লকডাউন উৎসবের মেজাজে কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জেলার সদর সহ বালুরঘাটে চায়ের দোকানে দেদার আড্ডা থেকে শুরু করে দোকান ও বাজারগুলিতে ভিড় জমান অসংখ্য মানুষজন । একসাথে এক জায়গায় গল্পগুজবের আসর চলে এদিন দুপুর পর্যন্ত। যার পরে অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দেন অনেকেই। খানিকটা চাপে পড়ে ডিএসপি সদর ধীমান মিত্রের নেতৃত্বে পুলিশ বেশকিছু দোকানপাট বন্ধ করিয়ে দেয়। কেড়ে নেওয়া হয় বেশকিছু ই’রিক্সার চাবিও। জেলা পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্তও নিজে শহরের আর্যসমিতি এলাকায় নজরদাড়ি চালিয়েছেন।
রাজ্যের নির্দেশে সোমবার বিকেল থেকেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় জারি করা হয় লকডাউন । তারপরেও দীর্ঘ রাত পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে রাস্তায় চলতে দেখা গিয়েছে। প্রথম দিকে শহরের প্রবেশদ্বার রঘুনাথপুর এলাকায় পুলিশ পিকেটিং করে বাইরে থেকে আসা বেশকিছু গাড়ি আটক করলেও পরে শহরের অন্যান্য এলাকায় তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। ফলে চায়ের দোকান, বাজার থেকে অন্যান্য দোকানগুলিতে প্রচুর মানুষের ভিড় লক্ষ্ করা গিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেও পরিস্থিতির এটুটুকু বদল হয়নি। বেশকিছু দোকানপাট বন্ধ থাকলেও চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাস্তার মোড়ে জটালা পাকিয়ে সাধারণ মানুষকে আড্ডা দিয়ে দেখা যায়। দুপুরের পর পুলিশের হস্তক্ষেপে শহরের বিভিন্ন এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়লেও বিকেল হতেই ফের মানুষের জয়াতেম লক্ষ্য করা যায় বেশকিছু এলাকায় । বালুরঘাটের পাশাপাশি তপনের আজমনপুরের বাসুরিয়া হাট অন্যান্যদিনের মতোই সচল থাকে। অন্যান্য ব্লকেও মানুষ লকডাউনকে পাত্তা না দিয়ে বাইরে বেড়িয়ে আড্ডা দিয়ে খোশ মেজাজে সময় কাটিয়েছেন ।
জেলা পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত জানিয়েছেন, জেলা জুড়ে লকডাউন জারি করা হয়েছে। সকলকে তা মেনে চলতে হবে। পুলিশ কোন অনিয়ম দেখলে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।