লকডাউনে বন্ধ কাজ, রেশন বিলি শুরু দক্ষিণ দিনাজপুরেও

রুমা চৌধুরী ,বোল্লা, বালুরঘাট, ৩ এপ্রিল – দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সাধারণ মানুষের জীবনজীবিকা কৃষিকাজ , চাষ ও নির্মাণ শ্রমিকের কাজের উপর নির্ভর করে চলে। নগদের জোগান আসে ভিনরাজ্য কর্মরত নির্মাণ শ্রমিকের কাজ থেকে। বর্তমান করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে গোটা দেশের সঙ্গে দক্ষিণ দিনাজপুরের মানুষও আতঙ্কিত। বহু নির্মাণশ্রমিক ভিনরাজ্য থেকে বাড়ি ফিরলেও অনেকে আবার বাড়ি ফিরে আসতে পারেননি। ভিনরাজ্যে যাতে ওই সব শ্রমিকদের খাওয়া দাওয়ার কোনওপ্রকার সমস্যা না হয়, সে জন্য রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাড়িতে থাকা গরীব শ্রেণীর মানুষদের সংসার কিভাবে চলবে, তা বলা মুশকিল। ছোট ছোট কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণীর মানুষরা এখন দিশেহারা। লকডাউনের মতো পরিস্থিতি কত দিন চলবে তা বুঝতে পারছেন না সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রায় ২০ লক্ষ মানুষের বসবাস। বেশিরভাগ মানুষ দিন আনি দিন খাই পরিবারের। করোনা ভাইরাস দাপটে গোটা দেশে চলছে লকডাউন। আর সেই লকডাউনের ফলে কয়েক লক্ষ গরীব মানুষের রুজি রোজগার কিভাবে হবে সেটা নিয়ে বেজায় চিন্তিত শ্রমিকরা। দিল্লী ,মুম্বাই, চেন্নাইয়ের মতো একাধিক শহর থেকে ফিরে এসেছে্ন হাজার হাজার শ্রমি। এখন তারা বেরোজগার। বর্তমানে কোনোক্রমে সংসার চললেও বেশিদিন লকডাউন বজায় থাকলে সংসার চালানো তাদের পক্ষে মুশকিল হয়ে পড়বে। এই সংকটময় সময়ে সরকারের কাছে সাহায্যর আবেদন করছেন শ্রমিকরা। রাজ্য সরকার চাল ,ডাল ,আলু সহ একাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিতে শুরু করেছেন । এতে অনেক শ্রমিক আসার আলো দেখতে শুরু করেছেন।
বালুরঘাট থানা এলাকার বোল্লা চকপাড়ার মকশেদুল মণ্ডল বলেন, তিন সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে সংসার। দিন মজুরের কাজ করে সংসার চলে। এখন কাজ হারিয়ে বেকার।. মেজো ছেলে ফারুক মণ্ডল তাঁর স্ত্রী ও কন্যাসন্তান নিয়ে দিল্লীতে আটকে পড়েছে। মকশেদুল মণ্ডল মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চেয়েছেন। অন্যদিকে বোল্লা মাদ্রাসাপাড়ার আরেক শ্রমিক পরগণা মুরমু বলেন, স্বামী ও স্ত্রী নিয়ে সংসার। স্ত্রী কলেজে ঝাড়ুঝাঁটা দিয়ে সামান্য টাকা পেতাম। তাতেই কোনক্রমে সংসার চলত। এখন কলেজ বন্ধ। কি করে সংসার চালাব, তা ভেবে শেষ করতে পারছি না। লস্করহাট নাড়িকাজোর গ্রামের সেলিম মন্ডল নামের এক যুবক বলেন , এলাকার গরীব মানুষরা এখন বেকার হয়ে বসে রয়েছেন। দিন কয়েক বাদে সমস্যা চরম আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছি। সরকারের কাছে আবেদন, গরীব বেকার মানুষদের জন্য কিছু ব্যবস্থা করুক। এরই মধ্যে নতুন অর্থবছরের প্রথমেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রেশন দোকানের মাধ্যমে শুরু হয়েছে খাদ্যশস্য বিলির কাজ। এতেই অনেক সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছেন তপন এলাকার রাজীব চৌধুরী নামের এক যুবক। তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দিন রাত এক করে আমাদের সুখ দুঃখে থেকে কাজ করে চলেছেন। সে জন্য দিদিকে ধন্যবাদ দিচ্ছি । ফলে গরীব মানুষদের মুখে কিছুটা হলেও হাসি ফুটেছে।