শিক্ষা প্রসারে পথপ্রদর্শক গয়েশবাড়ি ব্রাইট মিশন

ব্রাইট মিশন । কালিয়াচকের গয়েশবাড়ি গ্রামে গড়ে ওঠা আবাসিক এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
শুধু এলাকাতেই নয়, আশপাশের গ্রাম সহ সমগ্র কালিয়াচকে শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করে চলেছে। ২০০৮ সালে ২০ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে শুরু হয়
পথচলা।গত এক দশকে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০র
বেশি। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠরত এই পড়ুয়াদের সকলেই আবাসিক।
কালিয়াচক ছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার
এবং বীরভূমের ছাত্রছাত্রীরাও এখানে থেকে পড়াশোনা করছে। কথা হচ্ছিল স্কুলের
প্রধান শিক্ষক মহম্মদ রফিকূল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানালেন, আজ থেকে প্রায় দুই
দশক আগে কালিয়াচক জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চললেও
শিক্ষাদীক্ষার ক্ষেত্রে ছিল যথেষ্ট পিছিয়ে পড়া। সেই দেখেই প্রথম মাথায় আসে ব্লকের
আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে হলে আগে প্রয়োজন শিক্ষার বিস্তার। এরপরেই কয়েকজন
উদ্যোগী যুবককে নিয়ে গড়ে তোলা হয় আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গয়েশবাড়ি ব্রাইট
মিশন। দীর্ঘ দশ বছরে প্রত্যেকের প্রচেষ্টায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সকলের নজর
কেড়েছে। বর্তমানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩০০ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। শিক্ষক শিক্ষিকা
রয়েছেন মোট ৫৪ জন। এর মধ্যে ৩০ জন শিক্ষক শিক্ষিকা আবাসিক। বাকিরা
আমন্ত্রিত। প্রত্যেকে যথেষ্ট উচ্চশিক্ষিত এবং দক্ষ। তাঁদের তত্বাবধানেই চলে অনুশীলন।
গত কয়েক বছরে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যে কয়জন ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিক ও
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে তাদের প্রায় সকলেই ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ নম্বর নিয়ে
পাশ করেছে। গত বছরে সবচেয়ে বেশি ৯১ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। এবারে মোট ২৭
জন পড়ুয়া মাধ্যমিক ও ২৭ জন পড়ুয়া উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রতিদিন নিয়ম
করে এই ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন অভিজ্ঞ শিক্ষক শিক্ষিকারা। শ্রেণিকক্ষের
বাইরেও প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীদের প্রতি বিশেষ নজরদারি  রয়েছে তাঁদের। এককভাবে এবং
গ্রুপে করে প্রাইভেট টিউশনের ব্যবস্থাও রয়েছে। কেউ কোনো বিষয়ে দুর্বল থাকলে
তাকে আলাদা করে প্রশিক্ষণ দিয়ে দুর্বলতা কাটিয়ে তোলা হয়। ব্লকের বেশ কিছু কৃতি
ছাত্রছাত্রী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সুনামের সঙ্গে পাশ করে এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে
বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করছে।
পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধূলা সহ ছাত্রছাত্রীদের চারিত্রিক, ধর্মীয় এবং নৈতিক
শিক্ষাদানের মাধ্যমে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসাবে গড়ে তোলা হয় বলে জানান প্রধান
শিক্ষক। ক্যাম্পাসের মধ্যে ইনডোর এবং আউটডোর গেমসের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও
সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য বছরের বিভিন্ন সময় ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে নানা ধরণের

অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার জন্য এবং নৈতিক
চরিত্র গঠন করতে রয়েছে বিশেষ শিক্ষাদানের ব্যবস্থা।
প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারেও ব্রাইট মিশন সচেষ্ট বলে জানান প্রধান শিক্ষক। এই
প্রতিষ্ঠানের অধীনে মোট চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এই চারটি স্কুলে ছাত্রছাত্রীর
সংখ্যা প্রায় ২৭০০ জন।কালিয়াচকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই ছাত্রছাত্রীরা আসে। খুব
কম খরচে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আবাসিক এবং অনাবাসিক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা
রয়েছে। দুস্থ এবং মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে রয়েছে বিশেষ ছাড়।
এমনকি প্রয়োজনে বিনা খরচেও এখান থেকে মেধাবী পড়ুয়াদের পড়াশোনার ব্যবাস্থা
করা হয়ে থাকে।
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য, তাঁরা একটি প্রচেষ্টা শুরু করেছেন। এর ফল আগামী প্রজন্ম
পাবে বলে আশাবাদী তিনি। এই প্রতিষ্ঠান আগামীদিনে কালিয়াচক সহ সমগ্র জেলাকে
শিক্ষার পথ দেখাবে বলে মনে করেন অনেকেই।