সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে পথ দেখাতে পারে বামপন্থাই, মনে করেন বাম নেতা নিখিল দত্ত

জুলফিকার আলি, ৯ ফেব্রুয়ারি– দক্ষিণ মালদার জনপ্রিয় বাম নেতাদের অন্যতম নিখিল দত্ত। বাম মতাদর্শকে এখনো আঁকড়ে ধরে রেখেছেন তিনি। নানা প্রলোভনের ফাঁদে যখন কিছু রাজনীতিবিদ রাজনীতিকে জনসেবার পর্যায় থেকে লাভজনক ব্যবসায় নামিয়ে এনেছেন, তখন ব্যাতিক্রমি নিখিল দত্ত এখনো মনে করেন, মানুষের সেবার করার মধ্যে দিয়েই রাজনীতি সার্থকতা লাভ করে। তাঁর প্রচেষ্টায় বহু গরীব মানুষের ঘরে খাবার জুটছে। এ ছাড়াও বহু সমাজবিরোধীকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে নিয়ে এসে তিনি নতুন দিশা দেখিয়েছেন। তাঁরই প্রচেষ্টাই বেশ কিছু কুখ্যাত দুষ্কৃতি পরিবারের সদস্যদের আইসিডিএস প্রকল্পে কাজ দিয়ে সমাজের মুল ধারায় ফিরিয়ে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন। সেই নিখিল দত্ত আজও কালিয়াচকের আপা মর মানুষের কাছে নিখিলদা হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের কাজ করে বাম আমলে সুনাম অর্জন করেন। বাম আমলে সিপিআইএমের দাপটকে উপেক্ষা করেই আরএসপির একজন একনিষ্ঠ সৈনিক হিসাবে তিনি কাজ করে গিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অনেকে নানা অভিযোগ তুললেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটুট থেকেই নিজের দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন। তৎকালীন সিপিআইএমের নেতাদের একাংশের সমালোচনা স্বীকার হলেও তিনি পিছিয়ে আসেননি।
বাম শাসনে দক্ষিণ মালদার বেশকিছু এলাকা সমাজবিরোধীদের দাপটে নাকাল ছিল। সেইসব সমাজবিরোধীদের মুলস্রোতে ফিরিয়ে আনতে সারা জীবন কাজ করে গেছেন নিখিল দত্ত। সেইসব কাজে নিখিল দত্তকে তৎকালীন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তারা সহযোগিতা করে গেছেন।তৎকালীন বাম আমলে কালিয়াচকের তিনটি ব্লকে বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের রাজনৈতিক লড়াই থাকলেও মূল লড়াই ছিল আরএসপি বনাম সিপিআইএমের। পুলিশ প্রশাসনের একাংশের সহযোগিতা নিয়ে নিখিল দত্ত কাজ করে গেছেন। যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কালিয়াচকে বহু আন্দোলন করেন তিনি। তৎকালীন কালিয়াচক থানার ওসি অনিল রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করে এলাকার মানুষের সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হন তিনি।গ্রামে গ্রামে কংগ্রেস ও সিপিআই এমের ব্যপক শক্তির মধ্যেও আরএসপির সংগঠন তৈরি করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখেন। গ্রামে গ্রামে আই সি ডি এস প্রকল্পে কাজ দিয়ে বহু পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়ে নিখিল দত্ত আজও কালিয়াচকে বহু মানুষের ভিতরে বিরাজ করছেন।
আরএসপি নেতা নিখিল দত্ত বলেন, সারা দেশ জুড়েই সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। খাদ্য, বস্ত্র, কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলিকে বাদ দিয়ে তারা মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে চাইছে। এর বিরুদ্ধে পথ দেখাতে পারে বামপন্থাই। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে সামনের সারিতে থেকে বামেদেরকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।