বিপ্লবের পা ছুঁয়ে বিতর্কে বিজেপির জেলা সভাপতি

বালুরঘাট, ৬ জুলাই— লোকসভা নির্বাচনের পরেও ঘোর বিরোধী থাকা প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি বিপ্লব মিত্রের পা ছুঁয়ে প্রণাম করে বিতর্কে জড়ালেন বিজেপির দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সভাপতি শুভেন্দু সরকার । সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা নানা দুর্নীতিতে অভিযুক্ত বিপ্লব মিত্রের পা প্রকাশ্য সভায় ছোঁয়ায় ঘটনাকে ঘিরে জোর শোরগোল পড়েছে জেলা জুড়ে । খোদ জেলা সভাপতির এমন ভূমিকায় ক্ষোভে ফুঁসছেন দলের একাংশ নেতাকর্মীরা । বিতর্ক উঠেছে ওই অনুষ্ঠান সম্পর্কে সাংসদকে অন্ধকারে রাখার বিষয় নিয়েও । যাকে কেন্দ্র করেই কুশমন্ডির বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত এদিনের ওই সংবর্ধনা সভায় বিজেপি কর্মীসমর্থকদের তেমনভাবে দেখা যায়নি ।
তৃণমূলে গুরুত্ব হারাতেই লোকসভা ভোটের পর বিপ্লব মিত্রের বিজেপিতে যোগদানের বিষয়ে চর্চা শুরু হয়। নানা দুর্নীতিতে অভিযুক্ত এমন এক নেতাকে দলে নেবার খবর চাউড় হতেই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে জেলা জুড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই। সেই সময় বিতর্কে রাশ টানতে জেলা বিজেপি সভাপতি শুভেন্দু সরকার নিজে তাঁর ফেসবুক পোষ্টে একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে বিপ্লব মিত্রকে দুর্নীতিবাজ ও তোলাবাজ বলে আক্রমণ করেন। এবং জানিয়ে দেন তাঁর মতো লোকের বিজেপিতে কোনো জায়গা নেই । তার পরেই রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের হাত ধরে দিল্লীতে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন বিপ্লব মিত্র । ওই দল বদলের পর শুক্রবার দিল্লী থেকে শিলিগুড়ি নামেন বিপ্লব মিত্র । এদিন শনিবার সেখান থেকে বিরাট কনভয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় পৌছান তিনি । আর যাকে ঘিরেই কুশমন্ডিতে সংবর্ধনা সভার আয়োজন করে বিজেপি।
কুশমন্ডি বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওই প্রকাশ্য সভায় বিপ্লব মিত্র সহ দলবদল করা জেলা পরিষদের ১০ জন সদস্যকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানান বিজেপির নেতা কর্মীরা। যার মাঝেই বিপ্লবকে সংবর্ধনা জানাতে যান বিজেপির জেলা সভাপতি শুভেন্দু সরকার । মঞ্চে দেখা যায় বিপ্লবকে সংবর্ধনা জানানোর পরেই শুভেন্দু সরকার বিপ্লব মিত্রের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেছেন । সদ্য তৃণমূল ছেড়ে আসা ওই নেতার পা ছুঁয়ে দলের সভাপতির এমন প্রণামের ঘটনা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে দলের অন্দরে । তৃনমূলের সভাপতি থাকাকালীন সময়ে বিজেপির বিভিন্ন নেতাকর্মীদের মারধর, মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো সহ নানা অভিযোগ যে নেতার বিরুদ্ধে উঠেছিল, সেই নেতাকে বিজেপির সভাপতির এমন ভাবে আলিঙ্গন ও প্রণামকে মেনে নিতে পারেননি দলের একাংশ নেতা কর্মীরা । আর যার কারণেই এদিনের সভায় সেভাবে বিজেপির কর্মীদের দেখা যায়নি ।
বিষয়টি নিয়ে অন্য কায়দায় মুখ খুলেছেন এই কেন্দ্রের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারও। তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না । কে কাকে সংবর্ধনা দিচ্ছে সে ব্যাপারে তিনি সম্পুর্ন অন্ধকারে । তবে বয়সে বড় হওয়ায় কেউ কাউকে প্রণাম করতেই পারেন ।
জেলা তৃণমূল সভাপতি অর্পিতা ঘোষ বলেন, আগে যে দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে চিৎকার করছে, সে এখন দুর্নীতিবাজের পা ছুঁয়ে প্রণাম করছে । এটা মানুষ দেখছে । তৃণমূল কংগ্রেসের এখানে কিছু বলার নেই ।