অনুন্নয়নের ছায়ায় মুখ থুবড়ে পড়েছে হাজার পাখির গ্রাম আঙিনা

বালুরঘাট, ৮ জুলাই — পাখি আছে। নেই পাখিরালয়। অনুন্নয়নের ছায়ায় মুখ থুবড়ে পড়েছে হাজার পাখির গ্রাম আঙিনা। দেশ বিদেশ থেকে আগত পাখির বাসস্থান আজ অবহেলায় পড়ে রয়েছে। চারিদিকে পাখির বিষ্ঠা ছড়িয়ে থাকলেও সেগুলি পরিষ্কারে উদ্যোগ না নেওয়ায় সেগুলি থেকে ছড়াচ্ছে দূষণ। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের উদাসীন ভূমিকায় উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। বাধ্য হয়ে এলাকার অনেক মানুষ পাখি তাড়ানোর কাজ শুরু করেছেন। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আঙিনা গ্রামের বেহাল চিত্র তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
দীর্ঘ দশ বছরের বেশি সময় ধরে আঙিনা গ্রামে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে পরিযায়ী পাখির দল আসে। প্রতি বছর বৈশাখ মাসের প্রথম থেকেই হাজারো পাখি ভিড় জমাতে শুরু করে গ্রামে। শামুকখোল, নাইট হিরোন প্রভৃতি পাখির কলরবে ভরে ওঠে গ্রামের আকাশ বাতাস। সেখানে ছয় থেকে সাত মাস কাটায় পাখিগুলি। সেই পাখি দেখতেই ভিড় জমান হাজারো মানুষ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের তরফে পাখিদের থাকার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। পাখিরালয় তৈরি না হওয়া সহ পাখিদের পরিচর্যার অভাবে গৌরব হারাচ্ছে হাজার পাখীর গ্রাম আঙিনা। একই সাথে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। ফলে মানুষের আসা যাওয়া কমছে। গ্রাম জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাখির বিষ্ঠার কারণে দূষণ ছড়াচ্ছে এলাকায়। বাধ্য হয়ে কিছু মানুষ পাখি তাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ফলে ধীরে কমতে শুরু করেছে পাখির সংখ্যা। এমন পরিস্থিতির মধ্যে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। কুমারগঞ্জের বিডিও দেবদত্ত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, আঙিনা গ্রামকে ঘিরে ১ কোটি টাকার প্রোজেক্ট পাঠানো হয়েছে। ওই টাকা বরাদ্দ হলেই এলাকায় ওয়াচ টাওয়ার, রাস্তাঘাট সহ সামগ্রিক উন্নয়নের কাজ করা হবে।