কংগ্রেস ও তৃণমূলের ঘুম কেড়ে নিয়ে সুজাপুরে বিকল্প হিসাবে উঠে আসতে উদ্যোগী মিম , দাবি খারিজ করল বিরোধীরা ।

জুলফিকার আলিঃ- কালিয়াচক ১ ব্লকে নতুন সংগঠন গড়ে তুলতে মাঠে ময়দানে নেমে পড়ল মিমের কালিয়াচক শাখা। আগামী বিধানসভা ভোটে সুজাপুর আসনে মিম নিজেদের প্রার্থী দিতে চলেছে বলে দাবি মিম নেতৃত্বের। এই বিষয়ে অবশ্য মাথা ঘামাতে রাজি নয় বিরোধীরা।
মালদা জেলার মুসলিম অধ্যুষিত সুজাপুর আসনটি বরাবরই কংগ্রেসের দখলে থেকেছে। বাম আমলে অনেক চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারা দখল করতে সফল হতে পারেনি। বামেদের পতনের পর বর্তমান শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে গত বিধানসভা ভোটে আবু নাসের খান চোধুরিকে মাঠে নামানো হয়েছিল। কিন্তু ব্যর্থ হন তিনিও। কংগ্রেস প্রার্থী প্রায় ৫০ হাজার ভোটে ঈশা খান চোধুরির কাছে পরাজিত হন।সদ্য অনুষ্ঠিত লোকসভা ভোটে সারা দেশে বিজেপির জয়জয়কার হলেও কংগ্রেস এখানে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করার মতো দক্ষ নেতা এবং যোগ্য কর্মীর এখানে যথেষ্ট অভাব রয়েছে।বর্তমানে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এখানে নিজেদের শক্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হলেও তাদের মধ্যে একাধিক গোষ্ঠী থাকায় সাধারণ মানুষের একাংশ বীতশ্রদ্ধ। এমন পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়ে নিতে শুরু করেছে মিম। আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে শুরু হয়েছে সাংগঠনিক বিস্তারের কাজ। নিজেদের লক্ষ্য পূরণে আর সব দলের মতো এরাও যুব সমাজকেই হাতিয়ার করে লড়াই করতে চায়। যুব সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিশে কালিয়াচকের তিনটি ব্লকে সংগঠন করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন মিমের নেতৃত্ব সুজাপুর আসনটি তাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সদস্য বাড়াতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে সমাজে ঢোকার চেষ্টা করে চলেছে তারা । সুজাপুর ,আলিপুর ,জালালপুর ,সুলতানগঞ্জ ,চাঁদপুর ,শেরশাহি সহ একাধিক এলাকায় মিমের সদস্য সংখ্যা বেড়েই চলেছে বলে জেলা মিম নেতা সাবির আলির দাবি। এ ছাড়াও কালিয়াচক ১ ব্লকে ১৪ টি অঞ্চলে দিনের পর দিন সদস্য সংখ্যা বাড়ছে। সাবির আলি নামের দলের এক নেতার দাবি, এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে ভালো সাড়া মিলছে। সাধারণ মানুষ কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিকল্প রাজনৈতিক দল চাইছে। তাই তাদের চাহিদা মেটাতে আগামীদিনে মিম এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তবে মিমের মত দলকে কালিয়াচক ও সুজাপুরের মানুষ কখনও গ্রহণ করবে না। এমনই দাবি কংগ্রেস নেতা এনারুল হকের । তিনি বলেন, কালিয়াচক ও সুজাপুরের মানুষ গণি পরিবারের বাইরে ভবেন না। কালি ও সুজাপুরের মানুষ সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। এখনও সুজাপুর ও কালিয়াচক মানুষ কংগ্রেসের পাশে রয়েছে। জালুয়াবাধাল অঞ্চল সিপিএম ব্রাঞ্চ সম্পাদক কুতুবুদ্দিন চৌধুরী বলেন , বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু যুবক মিমে নাম লেখালেও সুজাপুর ও কালিয়াচকে মিম সে ভাবে বাড়বে না। কারণ, সুজাপুর ও কালিয়াচকের মানুষ কোনোদিন সাম্প্রদায়িক দলের সঙ্গে থাকেনি থাকবে না । কালিয়াচক- ১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি সাফিউল চৌধুরি, বলেন, মিমের মতো দল বিজেপির শক্তি বাড়ানোর জন্য এসেছে। কিছু যুবককে ভুল বুঝিয়ে তারা মিমে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা রাজনৈতিকভাবে এর মোকাবিলা করব। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের যুব শাখা সংগঠনের কালিয়াচক ১ ব্লক সভাপতি মোহাম্মাদ সারিউল শেখ বলেন ,মিমের স্থানীয় নেতারা কিছু যুবককে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে । কিন্তু তাতে লাভের লাভ কিছুই হবেনা ।আমাদের নেত্রী মমতা ব্ বন্দোপাধ্যায়ের উদ্যোগে গোঁটা রাজ্য জুড়ে উন্নয়নের জোয়ার বইছে ।বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর যুবকদের জন্য চালু করেছেন বিভিন্ন প্রকল্প ।কালিয়াচকের তিনটি ব্লকে সাম্প্রদায়িক দলের যায়গা নেই ।এক দিকে বিজেপি অন্য দিকে মিমের মত দল কালিয়াচকের তিনটি ব্লকে নিজেদের প্রভাব বাঁড়াতে চাইছে ।কিন্তু মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে রয়েছে। তবে নেতারা যে যাই বলুক না কেন, আগামীদিনে মিম কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে মাথাব্যাথার কারণ হতে চলেছে ।