মাকে বাঁচাতে প্রতিবেশী যুবককে হাঁসুয়ার কোপ

বালুরঘাট, ৮ সেপ্টেম্বর—– ডাইনি সন্দেহে এক মহিলাকে মারধর করতে গিয়ে হাঁসুয়ার কোপ খেল এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটের চিঙ্গিশপুরের মধুপুর আদিবাসী গ্রামে। মহিলার ছেলেই অভিযুক্ত যুবককে হাঁসুয়ার কোপ দিয়েছে বলে অভিযোগ । ঘটনার পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই যুবককে বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে । ঘটনায় আহত হয়েছে মহিলার ছেলেও । বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের হলেও পুলিশ প্রশাসনের তরফে ওই গ্রামে কোন সচেতনতামূলক প্রচার বা গ্রামবাসীদের সতর্ক করার কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ ।
জানা গিয়েছে মধুপুরের বাসিন্দা পেশায় কৃষক আমিন হাসদার ছেলে দীপক হাসদা। দীপক হাসদার প্রতিবেশী সঞ্জীত হাসদার পরিবারের লোকেরা কয়েকদিন ধরে অসুখে ভুগছিল। সঞ্জীতের অভিযোগ, আমিনের মা বিতিও মুরমু ডাইনি। তাঁর কুনজরের কারণেই বাড়ির লোকের অসুখ সারছে না। বৃহস্পতিবার রাতে বিতিওকে মারতে যায় সঞ্জীত। মাকে বাঁচাতে গেলে দুইজনের মধ্যে ঝামেলা বাধে। সেই সময় হাঁসুয়া দিয়ে সঞ্জিতকে কোপ দেয় দীপক বলে অভিযোগ। দুইজনকেই হাসপাতালে ভরতির করা হলে ছাড়া পায় দীপক । আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা চলছে সঞ্জিতের। ঘটনায় দীপকের পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে ।
এদিন ঘটনার তদন্তে ওই গ্রামে পৌঁছায় বালুরঘাট থানার পুলিশ। তবে আদিবাসী পরিবারের বিবাদ দেখে কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই এলাকা ছাড়ে আইনরক্ষকরা বলে অভিযোগ। পুলিশের মাধ্যমে ঘটনার রিপোর্টে বিডিও সহ প্রশাসন পেলেও ওই গ্রামের কোন সচেতনতামূলক প্রচার বা সেমিনারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবী বাসিন্দাদের ।
দীপকের বাবা আমিন হাঁসদা ও মা বিতিও মুর্মু জানিয়েছেন, ডাইনি সন্দেহে বাড়িতে মারতে আসে প্রতিবেশী সঞ্জিত । যার প্রতিবাদ করেছে তাঁদের ছেলে । হাঁসুয়ার কোপে আক্রান্ত সঞ্জিতের মা জানিয়েছেন, তাঁর ছেলের উপর হামলা চালানো হয়েছে । বিষয়টি নিয়ে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি ।