এনআরসির বিরুদ্ধে কালিয়াচকে পথে কয়েক হাজার মানুষ

জুলফিকার আলি– কালিয়াচকের মানুষের ওপর এনআরসি চাপানোর চেষ্টা করা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। রবিবার কালিয়াচক-১ ব্লক তৃণমূলের নেতৃত্বে প্রায় কয়েক হাজার মানুষ পথে নেমে এমন হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। কালিয়াচক চৌরঙ্গী থেকে এনআরসি বিরোধী এই মিছিলে প্রায় দশ হাজারের মতো মানুষ শামিল হয়েছিলেন। নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ত্থা কালিয়াচক-১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি আবু নাসের খান চৌধুরী, মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন, যুব তৃণমূলের মালদা জেলা সভাপতি অম্লান ভাদুড়ি, তৃণমূল নেতা আশরাফুল বিশ্বাস, যুব তৃণমূলের কালিয়াচক-১ ব্লক সভাপতি সারিউল শেখ ছাড়াও আরো অনেকে। এদিনের এই প্রতিবাদ মিছিলে যুব সমাজের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। চৌরঙ্গী থেকে শুরু হয়ে এই মিছিল কালিয়াচকের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা সকলেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিভাজনের রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন।
সম্প্রতি অসমে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সেই তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষের নাম। অর্থাৎ ওই মানুষেরা আর ভারতীয় নাগরিক হিসাবে গণ্য হবেন না। যদিও সংশোধনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময় এবং নিয়ম বেধে দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও নিশ্চিত হতে পারছেন না বহু মানুষ। ইতিমধ্যে আতঙ্কে বেশ কিছু মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। প্রায় হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা অসমের এনআরসির ছায়া পড়েছে এই রাজ্যেও। বিজেপির পক্ষ থেকে প্রচার করা হচ্ছে, এই রাজ্যেও কেন্দ্রীয় সরকার এনআরসি চালু করবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বিজেপির এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছে, বাংলায় এনআরসি চালু হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এর মধ্যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কালিয়াচকে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ নামে একটি সংগঠন সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা মূলক প্রচার চালাতে শুরু করে সংগঠনের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, খুব শীঘ্রই এই রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকার এনআরসি চালু করতে পারে। এরপরেই শুরু হয়েছে পুরাতন দলিল এবং আধার কার্ড সংশোধনের তৎপরতা। বুধবার সুজাপুর স্টেট ব্যাংকে গিয়ে দেখা গেল আধার কার্ড সংশোধনের জন্য প্রায় কয়েকশ মানুষ লম্বা লাইন দিয়ে অপেক্ষা করছেন। প্রত্যকেই এসেছেন আধার কার্ডে বয়স বা জন্মতারিখ ঠিক করার জন্য।
মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এই সিদ্ধান্ত চালু করলেও এই রাজ্যের মানুষ তা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের কালিয়াচক-১ ব্লক সভাপতি আবু নাসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি পরিচালিত সরকারের একের পর এক ভ্রান্ত নীতিতে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। আসল সমস্যার দিক থেকে মানুষের মুখ ফিরিয়ে দিতেই তাই এনআরসির মাধ্যমে বিভাজন তৈরি করতে চাইছে।
মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, অসমে এনআরসির মাধ্যমে প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ওই সমস্ত মানুষগুলি চূড়ান্ত হতাশার মধ্যে বাস করছেন। বাংলাতেও এই প্রক্রিয়া চালু করতে চাইছে বিজেপি। কিন্তু আমরা কোনোমতেই তা হতে দেব না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তাই আমরা সারা রাজ্যের পাশাপাশি কালিয়াচকেও পথে নেমেছি।
সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন কালিয়াচক-১ ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি সারিউল শেখ। তিনি বলেন, আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কোনো অবস্থাতেই এনআরসি চালু করতে দেবেন না বলে জানিয়েছেন। কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। প্রশাসনের কাছে আবেদন করব, এই ধরনের মানুষদের চিহ্নিত করে প্রশাসন যাতে ব্যবস্থা নেই, সেই আবেদন জানাব।