শেষ উৎসব, বিসর্জন ঘিরে তৎপর প্রশাসন

মালদা, ৯ অক্টোবর– দিন কেটেছে ভিড়ের পায়ে পায়ে। সন্ধ্যায়, গভীর রাতেও ভিড়ের উচ্ছ্বাস। এমনকি নবমী নিশির বিদায়বেলা যখন আসি-আসি করছে, তখনও ভিড়ে ভাটা নেই মালদার উত্তর থেকে দক্ষিণে। মহাপঞ্চমীর সন্ধ্যা থেকেই শহরের বিগ বাজেটের পুজোমণ্ডপগুলিতে উপচে পড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়। পুজোর মধ্যে বৃষ্টি হতে পারে, এই আশঙ্কা থেকেই মানুষ উৎসব শুরুর অনেক আগে থেকেই মাঠে নেমে পড়েন উৎসবপ্রিয় বাঙ্গালি। চতুর্থী-পঞ্চমীতে যানজট ছিল বিভিন্ন রাস্তায়। কার্যত ষষ্ঠী থেকেই গাড়ি চলাচল ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের রাশ হাতে তুলে নেয় পুলিশ। নবমীর রাতে উৎসবমুখর শহরের রাস্তা কার্যত মসৃণ রেখেছে মালদা জেলা পুলিশ। শহরের শিবাজি সংঘ, বালুচর কল্যাণ সমিতি, শান্তিভারতী পরিষদ, পুরাতন মালদার নবাগত ক্লাব, শঙ্কর স্মৃতি সংঘ ছাড়াও সমস্ত মণ্ডপেই সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঝে একটু আকাশের মুখ ভার হয়েছে। বৃষ্টিও হয়েছে সামান্য। তবে তাতে ভাটা পড়েনি উৎসবের। কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, নবমীতে ভিড় তুলনায় কম ছিল। তবে বিকেলের তুলনায় রাতে কিছুটা ভিড় বেড়েছে। তার ফলে পরিস্থিতি ভাল হয়েছে। পুলিশকর্তাদের যুক্তি, এবার রাস্তায় যত্রতত্র ভিড়ের পারাপার এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা হয়েছে। সেই জন্যই রাস্তায় মারাত্মক জট দেখা যায়নি। দশমীর দিনেও শহরের পথে ভিড় ছিল যথেষ্ট বেশি। প্রথা মেনে বিজয়া দশমীর দিন সিঁদুর খেলা শেষেই বিদায় জানানো হয় মাকে। পারিবারিক প্রতিমাগুলিকে বিসর্জন দেওয়া হয় এদিনেই। এছাড়াও আজ একাদশীর দিনেও মালদা শহরের প্রায় সমস্ত প্রতিমাই বিসর্জন দেওয়া হয় বিভিন্ন নদীতে। পথে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। জেলা প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে এদিন চলে প্রতিমা ভাসান। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মহানন্দার ঘাটগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। শহরের রাস্তাগুলিতে নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত চলবে প্রতিমা নিরঞ্জন। যদিও শহরের বিগ বাজেটের পুজোগুলির প্রতিমা নিরঞ্জন শুক্রবার করা হতে পারে বলে খবর।
প্রতিমা ভাসানোর ঘাট বলতে রামকৃষ্ণ মিশন খাট ও পুড়াটুলি সদরঘাট। এই দুই ঘাটের মধ্যে সিংহভাগ প্রতিমা ভাসান হয়ে থাকে মিশন ঘাটে। জলে বাঁশের ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। প্রতিমা নিরঞ্জনের কাজে ইংরেজবাজার পৌরসভার কর্মীদের নিযুক্ত করা হয়েছে। জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যাপারে ঘোষণা করা হচ্ছে। এবং সেই মতো একে একে প্রতিমা ঘাটে নিয়ে আসা হচ্ছে। রয়েছে স্পিডবোটের ব্যবস্থাও। তাতে নজরদারি চালানো হচ্ছে। রয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলার দল। পুরসভার পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে দুই ঘাটে। নিযুক্ত করা হয়েছে পর্যাপ্ত সিভিক ভলান্টিয়ার। দশমী অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকেই চলছে ভাসান। জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে জানা গেছে, মঙ্গলবার সবমিলিয়ে ৬০টি প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরেও কিছু ভাসান হয়েছে। সাধারণত দিনের বেলাতেই বেশিরভাগ প্রতিমা হচ্ছে। ইংরেজবাজার পৌরসভার উপপৌরপ্রধান দুলাল সরকার জানান, ‘পুরসভা এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ঘাটগুলিতে ভাসানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ নজরদারি চালাচ্ছে। ভাসানের কাজে পুরসভা থেকে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরকর্মীদের নিযুক্ত করা হয়েছে। নদীর জলে কাউকে নামতে যাওয়া হচ্ছে না। পুরকর্মীরাই ভাসানের কাজ চালাচ্ছেন।