কালিয়াচক-১ ব্লকে দলকে চাঙ্গা করতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বন্ধ করার দাবি উঠলো তৃনমূল কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে থেকে

জুলফিকার আলি – একসময় কংগ্রেসের শক্ত ঘাটি কালিয়াচক এখন তৃণমূলের উর্বর জমি। তবে লোকসভা ভোটে এই ব্লকে কার্যত ভরাডুবির জন্য শাসকদলের নিজেদের মধ্যকার বিবাদকেই দায়ী করছেন অনেকে। মালদা জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এলাকার তৃণমূল কর্মীরা দাবি করেছেন, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বন্ধ করার জন্য যাতে কঠোর হাতে ব্যবস্থা নেন মৌসম নুর। সদ্য লোকসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই কালিয়াচক ১ ব্লকে শাসকদলের রাজনৈতিক শক্তি কার হাতে থাকবে তা নিয়েই জোর গুঞ্জন চলছে। গত পঞ্চায়েত ভোটের পর থেকে কালিয়াচক-১ ব্লকে শাসকদলের সভাপতি হিসাবে আবু নাসের খাঁন চৌধুরি কাজ করছেন। তার নেতৃতেই কালিয়াচক ১ ব্লকে গত পঞ্চায়েত ভোটে বিরোধী কংগ্রেস ও সিপিআইএম কে ধূলিসাৎ করে ১৪ টি গ্রাম পঞ্চায়েত , কালিয়াচক ১ পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের ৩ টি আসন তৃণমূল কংগ্রেস দখল করে ।
কিন্তু তিনি বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় সংগঠনের কাজ করতে পারছেন না বলে দাবি অনেক কর্মীর I সঠিক নজরদারির কারণেই বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল নেতাদের একাংশ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন, যার প্রভাব পড়েছে ভোটবাক্সে।অনেক কর্মী আবার মনে করছেন খাঁনচৌধুরি ছাড়া লোকাল নেতাদের কন্ট্রোল করা একেবারে মুশকিল ।দলের একাংশ গনী খানের উত্তরসুরী হিসাবে আবু নাসের খাঁন চৌধুরিকেই চাইছেন ।
সদ্য অনুষ্ঠিত লোকসভা ভোটে লোকাল নেতারা নিজেদের এলাকায় ব্যাপকভাবে ধরাশায়ী হয়েছেন।শাসকদলের শক্ত ঘাটি মোজমপুর,সুজাপুর,যদুপুর ,গয়েশবাড়ী,জালালপুর ,জালুয়াবাধাল তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাটি হিসাবে পরিচিত ছিল।এবারের ভোটে এইসব এলাকায় অনেটাই পিছিয়ে রয়েছে শাসকদল। অনেকটা পিছিয়ে শাসক দল। মোজমপুর অঞ্চলে তৃণমূল ৬০০০ লিড পায়। সেখানে এবারে মাত্র ৭৮ ভোট লিড পেয়েছে শাসকদল। নওদা যদুপুর অঞ্চলে বিগত পঞ্চায়েত ভোটে ২৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও ৩টি পঞ্চায়েত সমিতি ফাঁকা মাঠে দখল করে। এবারের লোকসভা ভোটে আনুমানিক ৪ হাজার ভোটে পিছিয়ে। অন্যদিকে, সুজাপুর অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচুর নেতা রয়েছেন। হাজি কেতাবুদ্দিন, সোহরুল বিশ্বাস,এসারুদ্দিন মণ্ডলের মতো নেতাদের বসবাস এখানে । বিগত পঞ্চায়েত ভোটে কংগ্রেসকে ধুয়েমুছে সুজাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস। এবারের লোকসভায় এই অঞ্চলে ভোটের ফল ভালো হয়নি। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, গোটা অঞ্চলে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকট থাকায় ভালো ফন হয়নি। ভোটের আগে তৃণমূলের প্রার্থী ডাঃ মোয়াজ্জেম হোসেন সবাইকে নিয়ে কাজ করার কথা বলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দক্ষিণ মালদায় তিনি তৃতীয় স্থান দখল করেছেন।গত পঞ্চায়েত ভোটে গোয়েশবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূল কংগ্রেস দখল করে। এবার ভোটের আগে কংগ্রেস নেতা হামিদুর রহমান ও আণজার আলিকে দল ভাঙিয়ে নিয়ে এনেও কোনো লাভ হয়নি। এবারের লোকসভা ভোটে এই অঞ্চলে ২৬০০ ভোটে শাসকদল পিছিয়ে। একমাত্র বামনগ্রাম ও মসিমপুর অঞ্চলে ২৯০০ ভোটে এগিয়ে শাসকদল। লোকসভা ভোটের ফল খারাপ হতেই নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংগঠন মজবুত করতে জেলায় জেলায় সংগঠনে রদবদল করতে শুরু করেছেন।মালদা জেলার রাশ মৌসম নুরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব নিয়ে তিনি কাজ শুরু করে দিয়েছেন।কালিয়াচকে শাসকদলের যে সব নেতাদের এবারের ভোটে জনগন ছুড়ে ফেলে দিয়েছে তারাই আবার মৌসম নুরের কাছে ঘোরাফেরা করছে। কালিয়াচকের মতো কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিতে কিভাবে বর্তমান নেতাদের নিয়ে সংগঠন মজবুত করবেন তা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে রয়েছে নানা প্রশ্ন।জালালপুর জালালপুর অঞ্চল তৃনমূল কংগ্রেস সভাপতি জহরুল খাঁন বলেন,২০২১ বিধান সভা ভোটের আগে সংগঠন মজবুত করতে হলে দলের দরকার সর্বক্ষণের সভাপতি। সাধারণ মানুষের সুখদুখে পাশে দাঁড়ালেই তৃনমূল কংগ্রেস দলকে ভোট দেবে কালিয়াচকের সাধারণ মানুষ।এতেই কেল্লা ফতে হবে ।কালিয়াচক ১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি সামিজুদ্দিন আহমেদ রাহুল বলেন , গ্রাম ও অঞ্চল ভিত্তিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে দল নেতা নির্বাচিত করুক । দল যেটা সিদ্ধান্ত নেবে তা আমরা মেনে নেব।কালিয়াচক ১ যুব তৃনমূল কংগ্রেস সভাপতি সারিউল সেখ বলেন দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তা মেনেই আমরা কাজ করব ।
বিগত ৪০ বছর ধরে কালিয়াচক শাসকদলের পরিবর্তে বিরোধী শিবিরে থেকেছে ।ফলে এলাকার ন্যুনতম উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।বর্তমান রাজ্য সরকার গোটা রাজ্য বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প চালু করছে। হয়েছে রাস্তাঘাট,কলেজ ,বিদ্যালয় ,হাসপাতাল সহ একাধিক কাজ।কিন্তু কালিয়াচক বঞ্চিত থেকেছে।সুজাপুর বিধান সভা আসনটি বিরোধী শিবির থেকে ছিনিয়ে আনতে হলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মুক্ত সংগঠন দরকার । এটাই চাইছে কালিয়াচকের তৃনমূল কংগ্রেস কর্মীরা।তা না হলে কালিয়াচক যেখানে ছিল সেখানেই থেকে যাবে ।