তৃণমূলের মনিটরিং কমিটি নিয়ে ক্ষোভ দলের অন্দরে , সমস্যা মেটাতে আস্থা মৌসমে

জুলফিকার আলিঃ অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কালিয়াচক ১ ব্লকে মনিটরিং কমিটি ঘোষণা করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। কমিটিতে কারা কারা থাকবে তা নিয়ে স্থানীয় নেতা ও কর্মীদের মধ্যে কয়েকদিন ধরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মনিটরিং কমিটি ঘোষণা হতেই খুশির হাওয়া সাধারণ কর্মীদের মধ্যে। তবে বিরোধিতার সুরও দেখা গিয়েছে অনেক নেতার মধ্যে। অসন্তোষ থাকলেও এলাকার সমস্ত নেতাকর্মীই অবশ্য আস্থা রেখেছেন দলের বর্তমান সভাপতি মৌসম নুরের অপর। তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল সুজাপুর থেকে। তাই সুজাপুরের তৃণমূল কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও চাইছেন, মৌসম তাঁদের এলাকার হাল ধরুন। অন্যদিকে, কালিয়াচকের যুব সমাজের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে, সাংগঠনিক কাজে ছাত্র এবং যুব সমাজকেও গুরুত্ব দেওয়া হোক।
বিগত লোকসভা ভোটে সুজাপুর বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস অনেকটা ভোট বাড়াতে সক্ষম হলেও দলের সামগ্রিক ফল খারাপ হয়েছে। এতেই মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে রাজ্য ও জেলা নেতাদের। গত পঞ্চায়েত ভোটে বিরোধীদের ধূলিসাৎ করে দিয়ে ১৪ টি গ্রাম পঞ্চায়েত , কালিয়াচক ১ পঞ্চায়েত সমিতি ও ৩ টি জেলাপরিষদের আসন দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু সদ্য লোকসভা ভোটে দলের ফল খারাপ হয়েছে। আগামী বিধানসভা ভোটকে মাথায় রেখে মজবুত অঞ্চল কমিটি গঠন করতে ৮ জনের মনিটরিং কমিটি ঘোষণা করেছে দল। আবু নাসের খান চৌধুরী (চেয়ারম্যান) , হাজি কেতাবুদ্দিন (কনভেনার) ,আশরাফুল বিশ্বাস ,আরেফুর রহমান মিয়া , মোহাম্মাদ সামিজুদ্দিন ওরফে রাহুল , মো জাহার হোসেন ,নিলুফার ইয়াসমিন ,মাসিদুর রহমান রয়েছেন। কমিটিতে কারা কারা থাকবেন তা নিয়ে স্থানীয় নেতা ও কর্মীদের মধ্যে কয়েকদিন ধরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তবে শেষমেষ কমিটি ঘোষণা হতেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাগেছে ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে। বেশির ভাগ নেতা কর্মী খুশি হলেও। তবে দলীয় কর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে নতুন এই মনিটরিং কমিটি নিয়ে। সুজাপুরের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা এসারুদ্দিন মণ্ডল বলেন, নতুন যে কমিটি তৈরি করা হয়েছে সেই দলে সকলের মতামত গুরুত্ব পায়নি। দলকে চাঙ্গা করতে মানুষের সঙ্গে কথা বলে কমিটি গঠন করা উচিত ছিল। একপেশে মনোভাব নিয়ে চলা নেতাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে। ওই কমিটি কর্মীদের আশাপূরণ করতে সক্ষম হবে না ।তিনি আরও বলেন, সবশ্রেণীর নেতা-কর্মীদের নিয়ে অঞ্চল ও ব্লক কমিটি গঠন করতে হবে। অন্যদিকে, জালালপুরের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা জহরুল খান বলেন, মনিটরিং কমিটিতে জালালপুর , জালুয়াবাধাল , নওদা যদুপুরের প্রতিনিধি নেই। ওই এলাকা থেকে কমিটিতে প্রতিনিধি ঢোকাতে হবে। তবে দলের বেশিরভাগ কর্মীদের দাবি, অতি সত্ত্বর অঞ্চল কমিটি গঠন করে দলের সংগঠন মজবুত করতে হবে। অঞ্চল সংগঠনগুলি ভালোভাবে কাজ না করায় গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে পঞ্চায়েত প্রধানের মতবিরোধে দলের ক্ষতি হচ্ছে বলে কর্মীদের অভিমত। বেশ কিছু পঞ্চায়েত প্রধান নিজের ইচ্ছামতো কাজ করার কারণে সমস্যা হচ্ছে। গত লোকসভা ভোটে দলের প্রার্থী কম ভোট পাওয়ার একমাত্র কারণ, পঞ্চায়েতের কাজকর্মে স্থানীয় নেতা কর্মীদের একাংশের খবরদারি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। এর প্রভাব পড়েছে ভোটের বাক্সে। আলিনগর ও জালালপুর অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটে ধ্বস নেমেছে এই কারণেই। বেশকিছু এলাকায় এখন থেকেই যদি সাংগঠনিক বিষয়টির প্রতি নজর না দেওয়া হয়, তবে আগামী বিধানসভা ভোটে শাসকদল সমস্যায় পড়তে পারে। মনিটরিং কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর আশার আলো দেখছেন সাধারণ কর্মীরা। কিন্তু সেই কমিটি সাধারণ মানুষের কাছে যদি দলের বার্তা ঠিকমতো পৌছাতে না পারেন, তবে দলের কোনো লাভ হবে না। আগামী বিধানসভা ভোটের আগে দলকে ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে জেলা সভাপতি মৌসম নুর। কালিয়াচকে কংগ্রেসের ঘাঁটি ভেঙে তৃণমূল যেভাবে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে, তাকে কাজে লাগিয়ে সুজাপুর বিধানসভা তৃণমূল নেত্রীকে উপহার দিতে তিনি এখন থেকেই মরিয়া। তাই বিগত দিনের সমস্ত ভুলত্রুটি শুধরে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সকলকে সাথে নিয়েই পথ চলতে চান। শুধু দলের বার্তা নয়, সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলিও যাতে সকলের কাছে পৌছায় সে দিকেও তিনি সমানভাবে নজর দিচ্ছেন। কালিয়াচকের তৃণমূল কর্মীরাও তাঁর সঙ্গে রয়েছেন। মৌসম নূর অবশ্য জানিয়েছেন, কোথাও মনিটরিং কমিটি নিয়ে কোনো অসন্তোষ থাকলে তা দলীয় স্তরে আলোচনা করে ঠিক করে নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, কালিয়াচক-১ ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি মহম্মদ সারিউল শেখ বলেন, দলের কাজে ছাত্র এবং যুব সমাজকে গুরুত্ব দিলে সাংগঠনিকভাবে উপকার হবে। ছাত্র এবং যুবদের সঙ্গে সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষদের যোগাযোগ রয়েছে। তাই তাঁদেরকে কাজে লাগানো হলে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পগুলিকে সহজেই সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারবে। তাই নতুন সভানেত্রীর কাছে আমাদের আবেদন থাকবে, দলে ছাত্র এবং যুব সমাজকে যাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। নতুন যে মনিটরিং কমিটি তৈরি করা হয়েছে, সেখানে ছাত্র ও যুবদের প্রতিনিধি রাখা হলে সাংগঠনিকভাবে তৃণমূলের প্রভাব আরো বেশি বাড়ানো সম্ভব হবে।