ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় আক্রান্ত একই পরিবারের চারজন

উত্তর দিনাজপুর, ১০ আগস্ট– ইভটিজিং-এর প্রতিবাদ করায় এক কিশোরীর দাদা সহ পরিবারের সকলকে মারধরের পাশাপাশি বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে তিন ইভটিজারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে করণ দিঘী থানার কুড়িগাঁও গ্রামে। গুরুতর জখম অবস্থায় দাদা, বৌদি ও মামা রায়গঞ্জ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার বিবরণ জানিয়ে করণদিঘী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ওই তিন ইভটিজারের বিরুদ্ধে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে করণদিঘী থানার পুলিশ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, করণ দিঘী থানার কুড়িগাঁও গ্রামের এক কিশোরীকে গত কয়েক মাস ধরে উত্যক্ত করত পাশের গ্রাম মহনপুরের তিন যুবক। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই কিশোরী অ তার বৌদি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে গল্প করছিল। সেই সময় ওই তিন যুবক মোটরবাইকে করে এসে ফের অশালীন কথাবার্তা বলে। সেই সময় পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল দাদা দুলাল হক। বোনকে অশ্লীল কথা বলায় দাদা প্রতিবাদ করে। পাশাপাশি তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টাও করে। শুরু হয় তাদের মধ্যে বচসা। তাদের বাকবিতন্ডায় আশপাশ থেকে আসে গ্রামের মানুষেরা। গ্রামবাসীরা ওই তিন যুবককে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর ওই তিন যুবক তাদের গ্রামের মানুষদেরকে ডেকে নিয়ে এসে দুলাল হককে মারধর করতে থাকে বলে অভিযোগ। দাদাকে বাঁচাতে বোন, বৌদি ও অন্যান্য পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসে। সেই সময় পরিবারের লোকেদেরও মারধর করার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি ওই তিন যুবক ও তার লোকজনেরা দুলালদের বাড়িঘর ভাংচুর করে চলে যায়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মারধরের ফলে গুরুতর আহত হয় পরিবারের ৬-৭ জন। গ্রামবাসীরা আহতদের প্রথমে করণদিঘী গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসে। ওই চারজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদেরকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে করণদিঘী থানার পুলিশ। ওই ঘটনায় দুলালের পরিবারের পক্ষ থেকে করণদিঘী থানায় ওই তিন যুবকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ওই তিন যুবকের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে।