পুলিশি নজরদারিতে কালিয়াচকে শান্তিতেই পালিত মহরম

জুলফিকার আলি— মহরম পুরোপুরিভাবে একটি শোকের দিন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রাঃ) অবৈধভাবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত এজিদের বশ্যতা স্বীকার না করে, এক অসম যুদ্ধের মাধ্যমে মহরম মাসের ১০ তারিখে প্রাণ দিয়ে শাহাদাৎ বরণ করেন। সেদিন ফোরাত নদীর পারে কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসেন (রাঃ) তাঁর শিশু পুত্রসহ সবাইকে নির্দয়ভাবে শহীদ করেছিল এজিদের সৈন্যদল। সত্য ও ন্যায়ের পথে ইমাম হোসেন(রাঃ) ও তাঁর পরিবার সেদিন রক্তের বিনিময়ে ইসলামী সত্যের বীজবপন করে গিয়েছিলেন। তাঁদের উৎসর্গীকৃত জীবন ইসলামের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়েছে। ১০ই মহরম দিনটি আপামর সাধারণ মুসলমানের কাছে প্রবল শ্রদ্ধার। কারবালার ঘটনা ছাড়াও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্ন নবীর সময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এইদিনে ঘটেছিলো।
ইসলাম ধর্মের এই দিনটি সারা বিশ্ব জুড়েই পালিত হয়েছে যথাযোগ্য মর্যাদায়। জেলার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ব্লক কালিয়াচকে এই দিন থাকে শোকের আবহ। প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষ কারবালার ঘটনা স্মরণ করে পথে নামেন। বের করা হয় সুদৃশ্য তাজিয়া। বিভিন্ন এলাকার সুদৃশ্য তাজিয়া নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা পরিক্রমা করে কালিয়াচকের বিভিন্ন পথ। সবথেকে বেশি ভিড় হয় চৌরঙ্গী এলাকায়। মহরম কমিটিগুলির লাঠিখেলা এবং তাজিয়া সহযোগে শোভাজাত্রা সুষ্ঠুভাবে সমস্তরকমের ব্যবস্থা নিয়েছিল কালিয়াচক-১ পঞ্চায়েত সমিতি এবং কালিয়াচক থানার পুলিশ প্রশাসন। পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে চৌরঙ্গী এলাকায় বিশেষ শিবির করা হয়েছিল। সেখানে হাজির ছিলেন চোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আতিউর রহমান, জেলা পরিষদের সদস্য আরেফুর রহমান মিয়াঁ সহ আরো অনেকে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী দলগুলিকে তাঁরা মহরমের শুভেচ্ছা জানান। এছাড়াও কালিয়াচক-১ ব্লকের বিডিও সহ প্রশাসনের একাধিক কর্তাও এদিন হাজির হয়েছিলেন।
সারাদিন ধরেই এদিন ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষেরা নানা ভাবে দিনটিকে স্মরণ করেন। বিশ্বশান্তির উদ্দ্যেশ্যে কালিয়াচক-১, ২ এবং ৩ ব্লকের সমস্ত মসজিদে আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রার্থনার। সেখানে ঐতিহ্যবাহী দিনটির কথাও তুলে ধরেন মৌলবি সাহেবরা। এছাড়াও মসজিদে আসা সমস্ত মানুষজনের মধ্যে সিন্নি বিতরণ করা হয়। অনেক জায়গায় খাওয়ানো হয় খিচুড়িও। এছাড়াও দুস্থ মানুষদের সাধ্যমতো দান করেন অনেক মানুষ। বিকেলের দিক থেকে বের হয় তাজিয়া সহকারে শোভাজাত্রা। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্লকের মোট ৩৩টি মহরম কমিটিকে শোভাযাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। প্রায় লক্ষাধিক মানুষের ভিড় সামাল দিয়ে এদিন সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছে কালিয়াচক থানার পুলিশ। সকাল থেকেই বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে চৌরঙ্গী সহ বিভিন্ন এলাকায় ছুটে বেরিয়েছেন কালিয়াচক থানার আইসি আশিস দাস। ভিড়ের মধ্যে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য আইসির নেতৃত্বে সমস্ত পুলিশকর্মীরাই নিষ্ঠা সহকারে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। মহরম উতসব পালনের জন্য রাজ্য সরকার এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশকিছু নিয়ম বেধে দেওয়া হয়েছিল। এর আগেই সভা করে মহরম কমিটিগুলিকে সেই নিয়ম জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবুও সকলে সেই নিয়ম মেনে চলছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখেন পুলিশকর্মীরা। এছাড়াও আকাশপথেও নজরদারি চালানো হয়। এর জন্য ড্রোন ওড়ানোর ব্যবস্থা করেছিল পুলিশ প্রশাসন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিতেই এদিন মহরম পর্ব সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে কালিয়াচক থানার পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *