গরমের ফলে উত্তর দিনাজপুর জেলায় আমের ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা করছে জেলা উদ্যানপালন দপ্তর।

রায়গঞ্জ- গরমের ফলে উত্তর দিনাজপুর জেলায় আমের ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা করছে জেলা উদ্যানপালন দপ্তর। জেলায় গত বছরের তুলনায় এবারে প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন আম কম উৎপাদন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছে জেলা উদ্যান পালন দপ্তর। এই জেলার আম প্রত্যেক বছর দেশের বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানি হয়। ফলে রপ্তানিতেও প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এবার শুরু থেকেই প্রচণ্ড গরম ছিল। তাতে আমের ফলন কমে গিয়েছে। আগামী দিনে এই সমস্যা দেখা দিলে আম চাষের সঙ্গে যুক্ত চাষিদের কী করতে হবে সেই পরামর্শও দিচ্ছে জেলা উদ্যান পালন দপ্তর।
জেলার উদ্যান পালন দপ্তরের আধিকারিক সুফল মণ্ডল বলেন, গরমের কারণে এবার জেলায় আমের উৎপাদন কম হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক ঝড়েও প্রচুর আম নষ্ট হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এক হাজার মেট্রিক টন আম কম উৎপাদন হতে পারে। এর ফলে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তর দিনাজপুর জেলায় চলতি বছরে ২৩০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সূর্যাপুরী আম চাষ হয়েছে ২৮০ হেক্টর জমিতে। গত বছর জেলার এই বিশেষ প্রজাতির আম উৎপাদন হয়েছিল দু’হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু এবার সেই উৎপাদন কমে গিয়ে মাত্র এক হাজার ৬০০ মেট্রিক টন হয়েছে। অর্থাৎ এই আমের ক্ষেত্রেই ৪০০ মেট্রিক টন আম কম উৎপাদন হয়েছে। অপর দিকে, জেলায় হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি, আম্রপালী সহ স্থানীয় আরও নানা প্রজাতির আম উৎপাদন হয়। সেই আমের ফলনও প্রায় ৬০০ মেট্রিক টন কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গতবার জেলায় সব প্রজাতির আম মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছিল। এবারে সেই উৎপাদন কমে ১৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন হওয়ার সম্ভাবনা দখে দিয়েছে।
প্রতি বছরই জেলার বাজারে বিক্রি হওয়ার পাশাপাশি এখানকার আম বিহার, উত্তরাখণ্ড সহ আরও অনেক জায়গায় রপ্তানি হয়। আমের উৎপাদন কম হওয়ার কারণে তার উপরেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উৎপাদন কম হওয়ায় চাষিদেরও আর্থিক ক্ষতি হবে।
চলতি মরশুমে দীর্ঘস্থায়ী গরম আবহাওয়ার প্রভাব আমের চাষের উপরে পড়েছে। জেলায় গত এপ্রিল ও মে মাসে একটানা গরম চলেছে। প্রায় ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি গরম থাকায় তার প্রভাব আম চাষের উপরে পড়েছে। সেসঙ্গে প্রয়োজন মতো বৃষ্টিও হয়নি। এধরনের আবহাওয়ায় আমের উৎপাদন ঠিক রাখতে গেলে উদ্যান পালন দপ্তরের পক্ষ থেকে আমের গায়ে জল স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু সমস্ত চাষিদের পক্ষে এই কাজ নির্দেশ মতো করা সম্ভব হয়নিা। এছাড়াও উদ্যান পালন দপ্তরের পক্ষ থেকে আম বাগানের পাশ দিয়ে অন্য বড় গাছ লাগানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই গাছ বড় হতে অনেকটাই সময় লাগবে। ফলে এবারের আম চাষের ক্ষেত্রেও সেই পরামর্শ কাজে লাগবে না।