বাংলাদেশের রাবার ড্যামকে হাইড্রো বোমার সঙ্গে তুলনা ওয়াটারম্যান রাজেন্দ্র সিংয়ের

বালুরঘাট, ১৫ সেপ্টেম্বর– বাংলাদেশের রাবার ড্যামকে ‘হাইড্রোবোমের’ সাথে তুলনা করলেন ওয়াটারম্যান ডঃ রাজেন্দ্র সিং। রবিবার উৎসাহের ডাকে বালুরঘাটে নদীর উপর অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে যোগ দিয়ে এসে কুমারগঞ্জের সমজিয়ায় আত্রেয়ী নদী পরিদর্শনে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার প্রাপক এই নদী বিশেষজ্ঞ । তিনি বলেন আত্রেয়ীতে তৈরী বাংলাদেশের রাবার বাঁধ আন্তর্জাতিক সমস্যা। যার কারণেই বর্ষার মরসুমে কুমারগঞ্জের সমজিয়া এলাকায় জল থাকে না। এদিন নদী পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে বিশাল আকার বালির চর লক্ষ করেন ডঃ রাজেন্দ্র সিং। নদীতে জল না থাকায় চাষাবাদ করতে পারে না কৃষকরা । এদিন রাবার বাঁধ দেখা কিছু বাসিন্দা নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন রাজেন্দ্র সিংয়ের কাছে । এদিন তপনদিঘী সহ বেশ কিছু নদী পরিদর্শন করেন । কিভাবে আগামীতে জেলার নদীগুলির পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনা যায় কীভাবে, সেই দিকটিও তুলে ধরেন উৎসাহের আয়োজিত সেমিনারের মধ্য দিয়ে। শহরের নাট্যতীর্থ মন্মথ মঞ্চে অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রী সহ পরিবেশপ্রেমী মানুষদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি । আগামীতে জল বাঁচানোর আন্দোলনে জেলা বাসীর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন ওয়াটারম্যান ।
তিনি বালুরঘাটের নাট্যতীর্থ আয়োজিত একটি কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, জলের মতো মূল্যবান সম্পদকে আমরা কোনো গুরুত্ব দিতে শিখিনি। একটু কল্পনা যদি করা যায় সকালে উঠে যদি আমরা দেখি আমাদের কাছে জল নামক এই বস্তুটি নেই, তবে কেমন হবে আমাদের জীবন। তাই এই উদ্বেগকে বাস্তবে পরিণত হতে দেবার আগেই আমাদের সচেতন ও সতর্ক হতে হবে। জল কিভাবে ব্যাবহার করবো ও জলকে কিভাবে সংরক্ষণ করবো। মূল্যবান এই সম্পদকে আমরা যদি আজকে গুরুত্ব না দিই, তবে আগামীদিন আমাদের কাছে অত্যন্ত ভয়াবহ হতে চলেছে। তিনি আত্রেয়ী নদী নিয়ে বলেন, এই নদী অতি প্রাচীন। এই নদীকে যেভাবে বাঁধ দিয়েছে বাংলাদেশ, তাতে প্রাচীন এই নদী ক্রমেই শুকিয়ে পড়বে শুধু নয়, নদীর গতিপথ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পার। যা ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের পক্ষেই খুব খারাপ। দুই দেশের সরকারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এই বিষয়ে বিচার উচিৎ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এই জেলার নদী আন্দোলনে তিনি সবসময় এই সংগঠনের পক্ষে আছেন। তিনি যখন এই বিষয়ে ডাক পাবেন তখনই তিনি বালুরঘাটে ছুটে আসবেন। তিনি বালুরঘাটের “উৎসাহ” নামে এই সংগঠনটিকে এই কাজে এগিয়ে যাবার জন্য আহ্বান জানান।