ভিনরাজ্যে চাহিদা নেই, কাজ হারিয়ে বাড়ি ফিরছেন কালিয়াচকের বহু নির্মাণশ্রমিক

জুলফিকার আলি — দেশ জুড়ে আর্থিক মন্দা। একের পর এক পাততাড়ি গোটাচ্ছে বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থা। চলছে কর্মী ছাঁটাই। দেশের উন্নয়নের সূচক স্বাধীনতার পর সবথেকে নিম্নমুখী। ফলে বিপন্ন সাধারণ মানুষের রুজিরোজগার। বিপাকে পড়েছেন মালদা জেলার কালিয়াচক সহ দুই দিনাজপুর জেলার নির্মাণশ্রমিকরা। নির্মাণ শিল্পে শ্রমিকের প্রয়োজন কমে যাওয়ায় এই জেলা থেকেও তেমনভাবে শ্রমিকরা ভিনরাজ্যে গিয়ে কাজ পাচ্ছেন না। ফলে জেলায় ফিরে এসে বিকল্প জীবিকার সন্ধানে নেমেছেন অনেকে।
কালিয়াচক ১,২ ও ৩ নম্বর ব্লকের জীবন জীবিকা মূলত রেশমশিল্প ,নির্মাণশ্রমিক সরবরাহ ,আম ও লিচু চাষ, বস্ত্র ব্যবসার উপর নির্ভর করে চলে। গত কয়েক দশক ধরে এই তিন ব্লকের হাজার হাজার মানুষ নির্মাণ শ্রমিকের কাজে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়ে আসছেন। দেশের প্রায় প্রতিটি রাজ্যের নির্মাণ শ্রমিকদের চাহিদা মেটান কালিয়াচকের নির্মাণশ্রমিকরা। বিগত দশক থেকে নির্মাণ শ্রমিক সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকা ভিন রাজ্য থেকে কালিয়াচকের ঘরে ঢোকে। বর্তমানে দেশের আর্থিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে । এর প্রভাব পড়েছে কালিয়াচকের নির্মাণ শ্রমিকদের ওপরেও। গুজরাট ,মহারাষ্ট্র ,দিল্লী, হরিয়ানা ,পাঞ্জাব ,তামিলনাড়ুর মতো রাজ্য হাজার হাজার নির্মাণশ্রমিক কাজ করছেন। কিন্তু বড়ো বড়ো আবাসন প্রকল্পের কর্তারা সময়ে টাকা দিতে পারছেন না বলে দাবি অনেকের। ফলে সমস্যায় পড়েছে শ্রমিক সরবরাহকারী ঠিকাদাররা । তার আচ পড়েছে শ্রমিকদের ঘরে। শুধু মালদার কালিয়াচক নয়, আশেপাশের দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর দিনাজপুর ও মুর্শিদাবাদ থেকে কালিয়াচকের ঠিকাদার মারফৎ হাজার হাজার নির্মাণশ্রমিক নির্মাণের কাজে ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়েছেন। এখন অনেকেই কাজ হারিয়ে বাড়ি ফিরে এসেছে্ন। আবার অনেকে কাজের টাকা না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন। অবস্থা কবে স্বাভাবিক তা নিয়ে চিন্তিত সকলেই। শ্রমিক সরবরাহকারী এক ঠিকাদার সামিজুদিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে বড় বড় কোম্পানি লেবারের টাকা পেমেন্ট করছে না। ফলে কাজের সুযোগ কমছে । এর আগে মাসে মাসে কোম্পানি টাকা পেমেন্ট করতো। এখন মাসের পর মাস গেলেও টাকা পাওয়া যায় না ।ফলে কাজের সুযোগ এখন কমে গেছে। তিনি আর ওবলেন , এর আগে তারা মাসে ২০০০ লেবার সরবরাহ করত। বর্তমানে ১০০-১৫০তে নেমে এসেছে। অনেক ঠিকাদারের পুঁজি শেষ হয়ে গেছে। অনেকে পথে বসেছে । যাদের পুজি বেশি তারা কোনক্রমে কাজ চালু রেখেছে । আমাদের মত ঠিকাদারদের মধ্যে টাকার জন্য হাহাকার উঠে গেছে । চাইলেও লেবার সরবরাহ করতে পারছি না । দক্ষিণ দিনাজপুর বোল্লার লক্ষ্মী মুরমু বলেন , এর আগে মালদহের ঠিকাদাররা অগ্রিম টাকা দিয়েও আমাদের মত নির্মাণ শ্রমিকদের কাজে পেত না। এখন কাজের জন্য আমরা ঠিকাদারদের খুজছি কিন্তু তাদের এখন দেখা পাওয়া যাচ্ছে না কেন এরকম হল তা বুঝতে পারছি না। অন্যদিকে, রাজীব চৌধুরী নামের গাঙ্গিহারের এক যুবক বলেন , এলাকায় কাজ নেই । তাই কাজের অভাবে বসে আছি। উত্তর দারিয়াপুরের হাজিকুল আলম ,রিনটুঁ শেখদের একই কথা। কাজ নেই। বসে আছি । কিভাবে সংসার চালাবো তা বুঝে উঠতে পারছি না। ছোট সুজাপুরের তাকিউল ইসলাম বলেন ,কাজ নেই । কিভাবেই বা চলব। ছেলে মেয়েদের স্কুলের খরচ কীভাবে মিটাবো তা ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছিনা । আলিপুরের সফিউল্লাহ খান বলেন ,তিনি কম্পিউটারের কাজ জানেন। কিন্তু কাজ থেকে অনেক দূরে আছেন । কোথাও কাজ পাচ্ছেন না।