পুজোর মুখে ভাঙনে আতঙ্ক গোলাপমণ্ডলপাড়ায়

মালদা, ১৭ সেপ্টেম্বর– গ্রামে যোগাযোগের একমাত্র সিমেন্টের পাকা রাস্তার একাংশ মঙ্গলবার সকালে গঙ্গা ভাঙনে তলিয়ে গেল। নদীতে পড়ে গেল একাধিক বিদ্যুতের খুঁটি। এছাড়াও গ্রামের প্রায় দশটি বাড়ি গঙ্গা গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে স্থানীয় সূত্রে খবর। ফলে গঙ্গা ভাঙনের জেরে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল কালিয়াচক-৩ ব্লকের গোলাপমণ্ডলপাড়া। এদিকে ভাঙনে দুর্গত গ্রামের বেশিরভাগ পরিবারের কাছে সরকারিভাবে ত্রাণ পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ। তাঁদের অভিযোগ, সোমবার ব্লক প্রশাসনের কর্তারা এসে সামান্য কয়েকটি পরিবারের হাতে একটি করে ত্রিপল তুলে দিয়েছে। কিন্তু বাকিরা কিছু পায়নি। গঙ্গার জল বেড়ে চলায় গত এক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে কালিয়াচকের গোলাপমণ্ডলপাড়ায়। ওই গ্রামের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন চলছে। ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় অন্তত ত্রিশটি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে নিজেরাই সরিয়ে নিয়েছেন।
এদিন গোলাপমন্ডলপাড়া গ্রামে যাওয়ার একমাত্র সিমেন্টের রাস্তাটি বেশিরভাগ অংশ ভাঙনের জেরে গঙ্গায় তলিয়ে যায়। সেই সঙ্গে রাস্তার পাশে থাকা অন্তত ৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি গঙ্গাগর্ভে বিলীন হয়। গ্রামের বাসিন্দা বিষ্ণুপদ মন্ডল বলেন, ভাঙনের জেরে এদিন গ্রামের একমাত্র পাকা রাস্তাটির বেশ কিছু অংশ নদীতে চলে গিয়েছে। আমরা যে ঘর বাড়ি ভেঙে রিকশা ভ্যানে করে রাস্তা দিয়ে নিরাপদে সরাব তারও উপায় নেই। আমরা বেশ কিছু পরিবার খোলা আকাশের নিচে কাটালেও একটা ত্রিপল প্রশাসনের কাছ থেকে মেলেনি। এক বাসিন্দা সুজিত মন্ডল বলেন, গোলাপমন্ডলপাড়ার একমাত্র রাস্তার অনেকটা অংশ এদিন গঙ্গা গিলে নিয়েছে। গ্রামের প্রায় ৩০ টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে নিয়েছেন। সোমবার ব্লক প্রশাসনের কর্তারা এসে মাত্র কয়েকটি পরিবারের হাতে ত্রিপল তুলে দিলেও বাকিরা কোন ত্রাণ পায়নি। সেচদপ্তরের মালদহ ডিভিশনের নির্বাহি আধিকারিক প্রণব সামন্ত বলেন, গোলাপ মণ্ডলপাড়ায় প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন চলছে। এই পরিস্থিতিতে ওই ওই বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাঙন রোধের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। ভাঙ্গন পরিস্থিতির উপর আমরা নজর রাখছি।