বিদ্যার্থী বিজ্ঞান মন্থন প্রতিযোগিতায় সেরা বালুরঘাটের শ্বাশত

বালুরঘাট : হায়দ্রাবাদে সদ্য অনুষ্ঠিত সারা ভারত স্কুল পর্যায়ে বিজ্ঞান বিষয়ক ” বিদ্যার্থী বিজ্ঞান মন্থন ” প্রতিযোগিতায় জাতীয় স্তরে ( জুনিয়র) প্রথম স্থান অধিকার করেছে বালুরঘাটের কৃতি ছাত্র শাশ্বত বোস। পাশাপাশি এই বয়সেই তার ভাগ্যে জুটেছে হিমালয়ান উপাধি। এছাড়াও পুরস্কার স্বরূপ সে পেয়েছে ২৫ হাজার টাকা। শাশ্বতের এই সাফল্যে খুশির হাওয়া বালুরঘাটে।

ভারত সরকারের তামিলনাড়ুর কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ এবং ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউটস অফ কেমিক্যাল টেকনলজির যৌথ্ উদ্যোগে হায়দ্রাবাদে গত মে মাসের ১৮ ও ১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় সারা ভারত স্কুল পর্যায়ের বিদ্যার্থী বিজ্ঞান মন্থন প্রতিযোগিতা।প্রতিযোগিতার মুল উদ্দেশ্য দেশের ছাত্রছাত্রীদের বিজ্ঞান বিষয়ক নতুন নতুন গতিবিধির সাথে পরিচিত করে তোলা। সেই উদ্দেশ্যেই বিজ্ঞান ভারতির তরফে প্রতিবছর আয়োজন করে থাকে। যা সারা দেশে বিদ্যার্থী বিজ্ঞান মন্থন নামে পরিচিত।

দেশের সেরা বিজ্ঞান প্রতিভার খোঁজে এই প্রতিযোগিতায় প্রথম থেকে শেষ পর্যায়ে সারা ভারত থেকে যোগ দিয়েছিল প্রায় দেড় লক্ষ ছাত্রছাত্রী। তবে এত সব ছাত্র ছাত্রীদের জ্ঞানের ভান্ডারকে অবলীলায় হারিয়ে দিয়ে এই প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে বাজিমাত করেছে বালুরঘাট আত্রেয়ী ডিএভি পাবলিক স্কুলের ছাত্র শাশ্বত বোস। তবে তার স্বীকারক্তি, এত বড় সাফল্য অর্জন করায়ত্ত করতে সে এতটুকু নার্ভাস বোধ করনি । কেন না সে এই প্রতিজোগিতায় প্রথম থেকেই জেলা থেকে রাজ্য স্তরের পরীক্ষাগুলিতে বরাবর প্রথম স্থানটি তার দখলে ছিল।
আমাদের দেশ ইতিমধ্যে ডিজিটাল ইন্ডিয়াতে পরিনত হয়ে গেছে। আর সেই ডিজিটাল ইন্ডিয়ার দৌলতেই একটি অ্যাপ্সের মধ্যমে প্রথম পর্যায়ে এই প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি পরে জেলা, রাজ্য ও তার ও পরে দেশ জুড়ে চলা বিজ্ঞান বিষয়ক বিষয়ে লিখিত পরিক্ষা য় শাশ্বত যেমন সাফল্য করায়ক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তেমনি ভারতের তাবড় তাবড় বিজ্ঞানী মহলের সামনে ভয় ডর বিহীন ভাবে ভারতের মত মহান দেশ তার জ্ঞান দিয়ে বিজ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কতখানি সাহায্য করেছে। সেই বিষয়ে নিজের এক গঠন মুলক বিশ্লেষক বক্তব্য রেখেই প্রথম পুরষ্কার ছিনিয়ে আনতে পেরেছে বালুরঘাট শহরের আত্রেয়ী ডি এ ভি পাবলিক স্কুলের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র শাশ্বত বোস।
বাবা সুব্রত বোস পেশায়স্কুল শিক্ষক। মা বর্নালী বোস গৃহবধূ। শাশ্বতর এই সাফল্যে রীতি্মতো খুশি তারা। সুব্রতবাবু জানিয়েছেন, প্রথমে তারা সাফল্যের ব্যাপারে এতটা আশাবাদী না থাকলেও ও যত এগিয়েছে তত আমাদের ভিতরও একটা যেন বিশ্বাসের জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছিল। তবে শাশ্বতের মা বর্নালীদেবীর দাবি ,ওর সাফল্যের পেছনে তাদের ভূমিকার পাশাপাশি ওর স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের বিরাট অবদান রয়েছে। ছোট বয়স থেকেই বিজ্ঞানের নানা বিষয়ে জানার আগ্রহের পাশাপাশি কমপিউটর সফটওয়্যারের প্রতি আকর্ষন ও কম ছিলনা আত্রেয়ী ডি এ ভি পাবলিক স্কুলের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র শাশ্বত র।শাশ্বত জানিয়েছে এই সাফল্য অর্জন ওকে আর ও উতসাহিত করে তুলেছে । বিশেষ করে হায়দ্রাবাদে দাঁড়িয়ে দেশের ৯২ বছরের ভারতের তরুন তরতাজা বিখ্যাত বিজ্ঞানী রঘুনাথ আনন্দ মাশেলকারের সান্নিধ্য তার বিজ্ঞান নিয়ের চর্চা ও জ্ঞান অর্জনের স্পৃহা আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে জানিয়েছে। চন্দ্র যান ও মংগলযান বিষয় তার বারাবর প্রিয়। প্রতিযোগীতায় বিজ্ঞানী মহলের সামনে তার রাখা দেশের বিজ্ঞানের জ্ঞানের সহায়তা নিয়ে বক্তব্যেও সে এই চন্দ্রযান ও মংগলযানের কথা তুলে ধরেছিল। বড় হয়ে এই প্রতিযোগীতার সাফল্য সে দেশসেবায় লাগাতে চায় বলে শাশ্বত জানিয়েছে।ইতিমধ্যেই তাকে আগামী ৪ নভেম্বর কলকাতায় সায়েন্স সিটিতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশ্যান্যাল এক্সিবিশনে যোগ দেবার আমন্ত্রন তার হাতে চলে এসেছে। যা পেয়ে আরও কিছু জ্ঞান অর্জনের চাহিদা মিটিয়ে নিতে পারবে বলে সে আরো উচ্ছাসিত।