কালিয়াচকের খালতিপুরে দূরপাল্লার ট্রেনের স্টপেজের দাবি

কালিয়াচকের খালতিপুর স্টেশনে বিভিন্ন দূরপাল্লার ট্রেনের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। একাধিকবার এনিয়ে আন্দোলন হলেও রেলের তরফে শুধুমাত্র শুকনো প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কিছুই মেলেনি। ফলে ক্ষোভ বাড়তে শুরু করেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। তাঁদের দাবি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার আগে থেকেই মালদা জেলার আর্থসামাজিক ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র বলা যেতে পারে কালিয়াচককে। এই ব্লকের রেশম শিল্প শুধু ভারতেই নয়, বিদেশেও সমাদৃত।

এছাড়াও এই এলাকার আম এবং লিচু ছাড়াও প্লাস্টিক শিল্পের খ্যাতিও ভুবনবিদিত। স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায়িক কারণে প্রতিদিন এই ব্লকের অগণিত মানুষকে কলকাতা না অন্য রাজ্যে পাড়ি দিতে হয়। রেলপথে যোগাযোগের জন্য ট্রেন ধরতে এখানকার মানুষকে ছুটে আসতে হয় মালদা টাঊন স্টেশনে। অথচ কালিয়াচকেই অবস্থিত খালতিপুর রেলস্টেশনে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও কলকাতা বা দিল্লিগামী কোনো ট্রেন দাঁড়ায়না বলে দাবি স্থানীয়দের। এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এ এইচ খান চৌধুরীর প্রচেষ্টায় আজিমগঞ্জ ভায়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের ট্রেনের স্টপেজ দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু ফরাক্কা এক্সপ্রেস, গৌড় এক্সপ্রেস বা আরো অন্যান্য দূরপাল্লার ট্রেনগুলির স্টপেজের দাবি আজও অধরা থেকে গিয়েছে। এর আগে দাবি পূরণের জন্য তৎকালীন বিধায়ক বিশ্বনাথ ঘোষের নেতৃত্বে কালিয়াচকের সর্বস্তরের মানুষ নাগরিক মঞ্চ গড়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন। টানা রেল অবরোধের জেরে সেই সময় দাবিপূরণের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। শুরু হয়েছিল পরিকাঠামো তৈরির কাজ। কিন্তু ওই পর্যন্তই। এখনো দূরপাল্লার ট্রেনের দাবি মেটেনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহবুবুল শেখ বলেন, ব্যবসার কাজে আমাকে প্রায় কলকাতা যেতে হয়। ট্রেন ধরার জন্য কয়েক কিলোমিটার অতিক্রম করে যেতে হয় মালদা টাউন স্টেশনে। অথচ গৌড় এক্সপ্রসকে যদি খালতিপুরে স্টপেজ দেওয়া হত, তবে আমাদের সময় এবং খরচ দুটিই অনেক সাশ্রয় হত।
কালিয়াচক মারচেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের যুুুগ্ম সম্পাদক সামিউল হক বলেন, গণি খানের সময়ে একটি ট্রেনের স্টপেজ দেওয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। বর্তমানে কালিয়াচক থেকে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক ব্যবসায়ী ভিন জেলা বা রাজ্যে জান।

এছাড়াও চিকিৎসা করাতে বা পড়াশোনার প্রয়োজনে ছাত্রছাত্রীদেরকেও যাতায়াত করতে হয় রেলপথে। কিন্তু কালিয়াচকে দূরপাল্লার কোনো ট্রেনের স্টপেজ না থাকার জন্য বাধ্য হয়েই তাঁদের যেতে হয় মালদা শহরে। অথচ খালতিপুর স্টেশনে দূরপাল্লার ট্রেন দাঁড় করানোর মতো সমস্ত পরিকাঠামো রয়েছে। দরকার শুধু রেল দপ্তরের সদিচ্ছার। রেল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এর আগে আমরা একাধিকবার নানাভাবে চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ফলে কালিয়াচকের মানুষ এখনো যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অপরের উপর নির্ভরশীল থেকে গিয়েছে।