শুনবেন মানুষের অভাব অভিযোগ, দিদিকে বলোতে বের হচ্ছেন নাসের খান,

জুলফিকার আলি– রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে দিদিকে বল কর্মসূচি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে চলেছে কালিয়াচক-১ ব্লক তৃণমূল। আসন্ন সেই কর্মসূচিকে সফল করতে দলের ব্লক সভাপতি তথা মনিটরিং কমিটির চেয়ারম্যান সমস্ত দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে সকলে নিয়েই নেমে পড়েছেন ময়দানে। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি প্রচারের রণকৌশল জানান। বুধবার মালদা শহরের রথবাড়ি নুর ম্যানসনে আয়োজন করা হয়েছিল এই সাংবাদিক বৈঠকের। সাংবাদিক বৈঠক করে ‘দিদিকে বল’ কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যকলাপ তুলে ধরেন তিনি। বৃহস্পতিবার থেকে সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্রের গয়েশবাড়ি এলাকা থেকে শুরু হবে এই কর্মসূচি। তিনি আরো জানান, সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে গিয়ে মানুষের অভাব অভিযোগ শুনবেন এবং ‘দিদিকে বল’ ফোন নাম্বার দেওয়া একটি করে কার্ড বিলি করবেন। যেখানে মানুষ সরাসরি তাদের অভিযোগ জানাতে পারবেন দিদির কাছে। ‘দিদিকে বল’ এই কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে আগামীতে মালদা জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস আরো শক্তি বৃদ্ধি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন চেয়ারম্যান আবু নাসের খান চৌধুরী। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে হাজির ছিলেন সুজাপুর অঞ্চলের প্রধান আরিফ আলি, যদুপুর অঞ্চলের প্রধান রাজু শেখ, যুব তৃণমূলের কালিয়াচক-১ ব্লকের সভাপতি সারিউল শেখ, তৃণমূল নেতা সামিজুদ্দিন শেখ ওরফে রাহুল সহ আরো অনেকে। এছাড়াও কালিয়াচক-১ ব্লকের আরো ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, জেলাপরিষদের সদস্য নীলোফার ইয়াসমিন বেগম, হাজি কেতাবুদ্দিন উপস্থিত হয়েছিলেন সাংবাদিক বৈঠকে। দলীয় এই কর্মসূচিকে সফল করতে সমস্ত স্তরের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি যুবকর্মীদের বিশেষ গুরুত্ব নিতে হবে বলে জানান দলের ব্লক চেয়ারম্যান আবু নাসের খান চৌধুরি। গয়েশবাড়ি থেকে শুরু করে এই কর্মসূচি ব্লকের ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেই চালানো হবে। সাধারণ মানুষের কথা শোনার পাশাপাশি রাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িতে রাত্রিবাসও করবেন।
গয়েশবাড়ি যুব তৃণমূল নেতা সাফিকূল আলম বলেন, আজ বিকেল ৪টে নাগাদ তাঁদের নেতা আবু নাসের খান গয়েশবাড়ি এলাকা থেকে দিদিকে বলো কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন। তিনি পায়ে হেঁটেই এলাকার মানুষের বাড়ি বাড়ি যাবেন। সেখানকার মানুষের অভাব অভিযোগ শুনবেন। এছাড়াও গয়েশবাড়িতে তিনি রাত্রিবাসও করবেন। সেখান সাধারণ মানুষের বাড়িতেই নৈশভোজ সারবেন। তাঁর সঙ্গে ব্লক ও স্থানীয় তৃণমূল এবং যুব তৃণমূল নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।
সুজাপুর নিধানসভা এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেসের ঘাঁটি বলে পরিচিত। এই আস্ন থেকে কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে লড়াই করে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করে রাজ্য মন্ত্রীসভার সদস্যও হয়েছিলেন। পিছিয়ে পড়া কালিয়াচকের মানুষের উন্নতির জন্য তিনি মন্ত্রী হিসাবে বহু প্রকল্প নিয়ে আসতে হয়েছিলেন। জেলার রূপকার গণি খান চৌধুরির নামে তিনি গড়ে তুলেছিলেন গণি খান টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট। উদ্দেশ্য কালিয়াচকের পাশাপাশি জেলার যুবক যুবতিদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা করা। এছারাও সুজাপুরের মানুষের চাহিদা মেনে গড়ে তুলেছেন কালিয়াচক কৃষি ফার্মে সুজাপুর পলিটেকনিক কলেজ। সুজাপুরের ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি সুজাপুরে কলেজ গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতসবের পরেও গত বিধানসভা নির্বাচনে জনমত তাঁর বিপক্ষে যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শাসকদলের একাংশের কারণেই তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে জয়ী হতে পারেননি নাসের খান। তবে শাসকদলের প্রতি মানুষের আস্থা যে অটুট রয়েছে তা প্রমাণিত হয়েছে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে।কালিয়াচক-১ ব্লকের ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ছারাও জেলা পরিষদের তিনটি আসনও তৃণমূলের দখলে গিয়েছে। নিজেদের এই সাফল্য লোকসভাতেও ধরে রাখতে পেরেছে তৃণমূল।
২০২১ সালে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন নির্বাচনে সুজাপুর আসনটি কংগ্রেসের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে তাই এখন থেকেই ময়দানে তৃণমূল নেতৃত্ব। সেনাপতির ভূমিকায় দলের সুজাপুর বিধানসভার চেয়ারম্যান তথা কালিয়াচক-১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি আবু নাসের খান। গত কয়েক বছরে এলাকায় উন্নয়নের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও যে অসঙ্গতি রয়েছে, তা মানছেন নাসের খান। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সাধারণ মানুষের সেই ক্ষোভের কথা শুনতেই তিনি নিজে যাবেন সাধারণ মানুষের বাড়ি। তাঁদের অভাব অভিযোগ শুনে আগামীদিনে সেগুলি দূর করার জন্য সমস্তরকমের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিতে চান। এছাড়াও কালিয়াচকের স্বপ্নের সুজাপুর কলেজ গড়ে তোলার জন্যও তিনি ফের সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান।
দলের ব্লক সভাপতির এই কর্মসূচিতে সমস্ত শক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বেন বলে জানিয়েছেন কালিয়াচক-১ ব্লক যুব তৃণমূলের সভাপতি সারিউল শেখ। তিনি বলেন, যুব সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তাতে রাজ্যের লাখো মানুষ উপকৃত। তবুও বিরোধীরা মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। মানুষের সেই ভুল ভাঙতে এবং তাঁদের অভাব অভিযোগ শুনতে তাই তাঁরাও মানুষের বাড়ি বাড়ি যাবেন। কালিয়াচকের উন্নতির জন্য তৃণমূল নেতা নাসের খান কী কী কাজ করেছেন, সেগুলি মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে। কালিয়াচকের সমস্ত যুবকরাই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই কর্মসূচীকে সফল করতে তাঁদের প্রিয় নেতা আবু নাসের খানের পাশে থাকবেন।