খালতিপুর স্টেশন নিয়ে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বিজেপি

জুলফিকার আলি, ২৮ জুলাই —কালিয়াচকের খালতিপুর স্টেশনে বিভিন্ন দূরপাল্লার ট্রেনের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। একাধিকবার এনিয়ে আন্দোলন হলেও রেলের তরফে শুধুমাত্র শুকনো প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কিছুই মেলেনি। ফলে ক্ষোভ বাড়তে শুরু করেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। তাঁদের দাবি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের সেই দাবি নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপিও। দলের কালিয়াচক-১ মণ্ডল কমিটির সভাপতি নন্দনকুমার ঘোষ জানিয়েছেন, এবারে মালদা জেলা থেকে বিজেপির একজন সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর মাধ্যমেই কালিয়াচকের খালতিপুর স্টেশনের পরিকাঠামো উন্নয়ন সহ অন্যান্য দাবিগুলি কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর নজরে আনা হবে।
স্বাধীনতার আগে থেকেই মালদা জেলার আর্থসামাজিক ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র বলা যেতে পারে কালিয়াচককে। এই ব্লকের রেশম শিল্প শুধু ভারতেই নয়, বিদেশেও সমাদৃত। এছাড়াও এই এলাকার আম এবং লিচু ছাড়াও প্লাস্টিক শিল্পের খ্যাতিও ভুবনবিদিত। স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায়িক কারণে প্রতিদিন এই ব্লকের অগণিত মানুষকে কলকাতা না অন্য রাজ্যে পাড়ি দিতে হয়। রেলপথে যোগাযোগের জন্য ট্রেন ধরতে এখানকার মানুষকে ছুটে আসতে হয় মালদা টাঊন স্টেশনে। অথচ কালিয়াচকেই অবস্থিত খালতিপুর রেলস্টেশনে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও কলকাতা বা দিল্লিগামী কোনো ট্রেন দাঁড়ায় না বলে দাবি স্থানীয়দের। এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আবু হাসেম খান চৌধুরীর প্রচেষ্টায় আজিমগঞ্জ ভায়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের ট্রেনের স্টপেজ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ফরাক্কা এক্সপ্রেস, গৌড় এক্সপ্রেস বা আরো অন্যান্য দূরপাল্লার ট্রেনগুলির স্টপেজের দাবি আজও অধরা থেকে গিয়েছে। এর আগে দাবি পূরণের জন্য তৎকালীন বিধায়ক বিশ্বনাথ ঘোষের নেতৃত্বে কালিয়াচকের সর্বস্তরের মানুষ নাগরিক মঞ্চ গড়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন। টানা রেল অবরোধের জেরে সেই সময় দাবিপূরণের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। শুরু হয়েছিল পরিকাঠামো তৈরির কাজ। কিন্তু ওই পর্যন্তই। এখনো দূরপাল্লার ট্রেনের দাবি মেটেনি। শুধু ব্যবসায়িক কারণ নয়, চিকিৎসা করাতে বা পড়াশোনার প্রয়োজনে ছাত্রছাত্রীদেরকেও যাতায়াত করতে হয় রেলপথে। কিন্তু কালিয়াচকে দূরপাল্লার কোনো ট্রেনের স্টপেজ না থাকার জন্য বাধ্য হয়েই তাঁদের যেতে হয় মালদা শহরে। অথচ খালতিপুর স্টেশনে দূরপাল্লার ট্রেন দাঁড় করানোর মতো সমস্ত পরিকাঠামো রয়েছে। দরকার শুধু রেল দপ্তরের সদিচ্ছার। রেল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এর আগে আমরা একাধিকবার নানাভাবে চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ফলে কালিয়াচকের মানুষ এখনো যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অপরের উপর নির্ভরশীল থেকে গিয়েছে।
তবে রাজ্যে এবার গেরুয়া শিবিরের উত্থানের পর থেকেই আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন কালিয়াচকের মানুষ। খালতিপুর স্টেশনে একাধিক দূরপাল্লার ট্রেনের দাবি এবার জেলার বিজেপি সাংসদের মাধ্যমে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের নজরে আনা হবে বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। দলের কালিয়াচক-১ মণ্ডল কমিটির সভাপতি নন্দনকুমার ঘোষ বলেন, খালতিপুরে দূরপাল্লার ট্রেনের দাবি কালিয়াচকের মানুষ বহুদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু জেলার দুই কংগ্রেসি সাংসদ মানুষের এই দাবি নিয়ে লোকসভায় তেমনভাবে সরব হতে পারেননি। ফলে উপেক্ষিত থেকে গিয়েছে এলাকার মানুষের দাবি। এবারে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার গঠন করেছে। এই জেলা থেকে একজন দলীয় সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। তাই তাঁর মাধ্যমেই খালতিপুর স্টেশনের সমস্যা, পরিকাঠামো উন্নয়ন সহ একাধিক বিষয় কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর নজরে আনা হবে। আশা করি, তিনি এলাকার মানুষের সমস্যার কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।