জাতীয় সড়ক সংস্কারের জন্য সময়সীমা বেধে দিল তৃণমূল, সিদ্ধান্ত টোল ট্যাক্স না দেওয়ার

জুলফিকার আলি, ২৮ জুলাই — জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার প্রতিবাদে আন্দোলনে নামল তৃণমূল। বেহাল সড়কপথ সংস্কারের জন্য আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। সেই সঙ্গে রাস্তার কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সড়কে টোল ট্যাক্স দেওয়া হবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। রবিবার দলের মোথাবাড়ি কেন্দ্রের বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। কর্মসূচিতে হাজির ছিলেন কালিয়াচক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আতিউর রহমান, কালিয়াচক-১ ব্লকের তৃণমূল নেতা আশরাফুল হক, কালিয়াচক-৩ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি নালেপ আলি সহ আরো অনেকে। কালিয়াচক-৩ ব্লকের আঠারো মাইল এলাকার টোল প্লাজার কাছে এদিন এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক ঘটনাস্থলে হাজির ছিলেন। সেখানেই আলোচনার পর নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

কালিয়াচকের মধ্যে দিয়ে যাওয়া ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে এই রাস্তা। গত কয়েক বছর আগে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেছিল। কিছুটা কাজ হয়েছে। তারপর থেকে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সেই কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে সুজাপুর থেকে কালিয়াচক ব্লক অফিস পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা কহতব্য নয়। রাস্তার দুইধার ফাঁকা করে খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলা হয়েছিল নির্মাণসামগ্রী। রাস্তায় পাথর ফেলা হলেও পিচের আস্তরণ দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থায় থাকার ফলে জাতীয় সড়ক যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তৈরি হয়েছে ছোটো বড়ো গর্ত। এছাড়াও জাতীয় সড়কের একাংশ দখল হয়ে রয়েছে। বেহাল এই রাস্তা দিয়ে সাইকেল, মোটরসাইকেল বা চার চাকার গাড়ি চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অনেকেই আবার পায়ে হেঁটে রাস্তা পার হতে গিয়েও দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। কিছুদিন আগেই এই রাস্তায় গাড়ির ধাক্কায় মারা গেছেন এক ব্যক্তি। এছাড়াও কয়েকদিন আগেই রাস্তা পার হতে গিয়ে লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে নবম শ্রেণির এক ছাত্র মারা গিয়েছে। খারাপ রাস্তার কারণে বারবার দুর্ঘটনা ঘটতে থাকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার বাসিন্দা বিশু শেখ, মহসিন আলি সহ আরো অনেকে বলেন, জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে কয়েক বছর আগে। কিন্তু নিজেদের অপদার্থতায় তারা সেই কাজ এখনো শেষ করে উঠতে পারেনি। ফলে রাস্তার উপরেই পড়ে রয়েছে পাথরের টুকরো। কোথাও কোথাও আবার রাস্তার ওপর খুঁড়ে রাখা হয়েছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতার প্রতিবাদেই আন্দোলনে নেমেছে তৃণমূল। বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, দীর্ঘদিন আগে জাতীয় সড়ক মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু সেই কাজ এখনো শেষ করে উঠতে পারেনি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। সুজাপুর থেকে কালিয়াচক পর্যন্ত রাস্তার দশা এতটাই খারাপ যে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। চালকরা এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ রাস্তা মেরামত না করেই টোল ট্যাক্স চালু করে দিয়েছে। প্রতিদিন এই রাস্তা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা সরকার টোল বাবদ আয় করছে, অথচ সেই রাস্তা সারাইয়ে কোনো হেলদোল নেই। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তাই বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামতে হয়েছে। এদিন আলোচনার মাধ্যমে তৃণমূল নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আগামী ১ আগস্টের মধ্যে রাস্তার কাজ শুরু করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে। এছাড়াও রাস্তার কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত টোল ট্যাক্সও দেওয়া হবে না।
কালিয়াচক-৩ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি নালেপ আলি বলেন, বেহাল জাতীয় সড়ক সংস্কারের দাবিতে এর আগে একাধিকবার আন্দোলন করা হয়েছে। কিন্তু জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। বাধ্য হয়েই তাই এদিন ফের আন্দোলনে নামতে হয়েছে।
কালিয়াচক -৩ ব্লকের তৃণমূল নেতা আশরাফুল ইসলাম এবং কালিয়াচক-১ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ মুসলিম আলি বলেন, জাতীয় সড়ক বেহাল থাকার কারণে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটে। এতদিন পর্যন্ত কালিয়াচক বিডিও অফিসের কাছ থেকে আঠারো মাইল এলাকা পর্যন্ত জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনায় মৃত এবং আহতদের ক্ষতিপূরণের দাবিও জানানো হয়েছে এদিন।