রেশম শিল্প বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন

জুলফিকার আলি – মালদা জেলার রেশম শিল্পকে চাঙ্গা করতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন। জেলার বিখ্যাত রেশম রেশম চাষ সারা দেশের মধ্যে বিশেষ স্থান দখল করে আছে ।গত দশক থেকেই এই শিল্প সরকারি অবহেলার শিকার হয়ে পড়েছে। সরকারি একাধিক নীতির ফলে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত মালদা তথা কালিয়াচকের ঐতিহ্যবাহী রেশম চাষ। সংকটের মুখে থাকা রেশম চাষকে বাঁচাতে রাজনৈতিক উদ্যোগের দাবি উঠলেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি । মোথবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন শেষ পর্যন্ত উদ্যোগ নেওয়ায় খুশি চাষি মহলে ।
মালদায় প্রায় ৬৫ হাজার পরিবার রেশমচাষের সঙ্গে যুক্ত । জেলার ১১ টি ব্লকে রেশম চাষ হয়ে থাকে। প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ রেশম শিল্পের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত থেকে জীবনযাপন করছেন। জেলার অর্থনৈতিক শক্তি অনেকটাই রেশম শিল্পের উপর নির্ভরশীল। প্রয়াত গণি খানের উদ্যোগে ১৯৮০ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে আইএসডিপি প্রকল্প চালু করা হয় ।সেই প্রকল্পে ৮ কোটি টাকা মঞ্জুর করে জাতীয় পরিকল্পনা কমিশন ।সেই টাকায় গড়ে উঠে মোথাবাড়িতে রিজিওনাল সেরিকালচার রিসার্চ ষ্টেশনে। এ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকায় রেশম চাষিদের নীরোগ পলুর ডিম সরবরাহের জন্য সেরিকালচার সার্ভিস সেন্টার গড়ে তোলা হয় । মালদহের মহেশমাটিতে উত্তর পূর্ব ভারতের অফিস খোলা হয় । সেই অফিস থেকে বছরে প্রায় ২ কোটি নীরোগ পোলুর ডিম মালদহের চাষিদের দেওয়া হত। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক কেন্দ্রীয় রেশম পর্ষদের অফিস হয় বন্ধ করে দিয়েছে অথবা গুটিয়ে নিয়েছে । বন্ধ হয়ে গেছে একের পর এক সেরিকালচার সার্ভিস সেন্টার। এখন মোথাবাড়ির বাগমারা থেকে নামেমাত্র কাজ করছে কিছু অফিস । গণি খানের স্বপ্নের রেশম সিটি আজ চূড়ান্ত অবহেলার শিকার । মালদার প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষ আজ রেশম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। বিকল্পের সন্ধানে তাঁরা মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের টিকিয়ে রাখতে সরকারি তরফে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। রাজ্য সরকার নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অনুদান দিয়ে মালদা জেলা সহ রাজ্যের রেশম শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় রেশম পর্ষদ হাত গুটিয়ে নিয়েছে । রাজ্য সরকার রেশমচাষিদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন । জেলার রেশম শিল্পকে চাঙ্গা করতে নানা পদক্ষেপের জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলার রেশম শিল্পী এবং ব্যবসায়ীরা। আলিনগরের মোতিউর রহমান বলেন, আমার পরিবার রেশম চাষের উপর নির্ভরশীল। রেশম চাষ করেই ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাচ্ছি । কিন্তু বর্তমানে এই চাষ এবং শিল্পে সঙ্কট দেখা দেওয়ায় সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে। রেশমের দাম নেই বললেই চলে । চাষ করে লাভের মূখ দেখতে পাওয়া যায় না। বাপ ঠাকুরদার আমল থেকে এই চাষের সঙ্গে যুক্ত। তাই চাইলেও অন্য পেশায় যেতে পারছি না। আলিনগরের ডিম উৎপাদনকারী আয়েশ আলি বলেন, মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে কেন্দ্রীয় রেশম পর্ষদকে অকেজো করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে রাজ্য রেশমদপ্তরের অধীনে থেকে পলুর ডিম উৎপাদন করতাম। সেখান থেকে তারা নানা সাহায্য মিলত। এখন আর সেভাবে সরকারি সাহায্য মেলে না। রাজ্য সরকারের অধীনে থাকার সময় অনেক প্রকল্পের মাধ্যমে সাহায্য পেয়েছেন। কিন্তু এখন তারা কিছুই পাচ্ছেনা । তিনি আর ও দাবি করে বলেন তাঁদেরকে রাজ্য সরকারের অধীনে ফিরিয়ে আনতে হবে । সাবিনা ইয়াসমিন উদ্যোগ নেওয়ায় তারা খুশি । কয়েক লাখ রেশম চাষির কথা ভেবে মাষ্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা দরকার । সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, মালদহের রেশম চাষ কয়েকশো বছরের ও বেশি পুরনো । কেন্দ্রীয় সরকারের ভ্রান্ত নীতির জন্য রেশম চাষ বন্ধ হতে চলেছে । রাজ্য সরকার নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী রেশম চাষিদের সাহায্য করে চলেছে । আরও বেশি করে চাষিদের সাহায্য করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে দিদিকে তিনি চিঠি দিয়ে অনূরোধ করেছেন । আশা করি চাষিদের সমস্যার সমাধান হবে ।