বন্যায় জলবন্দি জেলার প্রায় পঞ্চাশ হাজারের বেশি মানুষ

দেবু সিংহ, মালদা, ৩০ সেপ্টেম্বর— বাঙ্গালির সেরা উৎসব শারদীয়া দুর্গাপুজোর বাকি আর মাত্র কয়েকটি দিন। বছরভর মানুষ মুখিয়ে থাকেন এই চারদিন উৎসবে মেতে ওঠার জন্য। কিন্তু এবারে সেই উৎসবকে পণ্ড করে দিতে প্রকৃতি যেন প্রতিজ্ঞা করেছে। পুজোর কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। সেই বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষ্মণ নেই। অবিরাম বৃষ্টির ফলে জেলায় সৃষ্টি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। গত ৭২ঘন্টার বেশী সময় ধরে আকাশ কালো মেঘে ঢাকা। মালদার জনজীবন নাজেহাল। বৃষ্টির পাশাপাশি মালদা জেলার গঙ্গাঁ, ফুলহার ও মহানন্দা নদীর জলস্ফীতি ঘটেছে। চরম বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে গঙ্গাঁ ও ফুলহার নদীর জল। নতুন করে আরো ২১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গঙ্গাঁর আপার ক্যাচমেন্টেও বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে গঙ্গাঁ নদীর জল আগামী আরো চারদিন বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে জেলা সেচদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। ফলে বিপদ এখনও রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে নদীতীরবর্তী ব্লকগুলিতে। কয়েকদিন আগেই রতুয়ার সুরজাপুরে প্রবল জলের তোড়ে ভেঙেছে রিং বাঁধ। প্লাবিত হয়েছে কয়েকটি গ্রাম। রতুয়া ছাড়াও চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুর ব্লকের কয়েকটি গ্রামের প্রায় চল্লিশ হাজারের বেশি মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়াও গঙ্গার জল বেড়ে প্লাবিত হয়েছে কালিয়াচক-২, ৩ ব্লকের আরো কয়েকটি গ্রাম। বন্যার পাশাপাশি মানিকচকে শুরু হয়েছে ভাঙন। বন্যা এবং ভাঙনের জেরে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা সাধারণ মানুষের। জলের তলায় বাড়িঘর। ফলে বন্যাদুর্গতরা আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু জায়গায়। তবে বন্যদুর্গত এলাকার মানুষজন পর্যাপ্ত ত্রাণ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবারেই ত্রাণ নিয়ে রতুয়ার বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে হাজির হয়েছিলেন প্রশাসনের কর্তারা। ছিলেন জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য, মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল, প্রাক্তন সাংসদ মৌসম নুর প্রমুখ। জলবন্দি মানুষজনের হাতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন তাঁরা। জেলাশাসক জানিয়েছেন, বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণের কোনো অভাব নেই। স্থানীয় বিডিওদের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে।