শান্তিতে ভোট দিতে পারায় খুশি কালিয়াচকের মানুষ

দীর্ঘদিন বাদে শান্তিতে ভোট দিতে পারায় খুশি কালিয়াচকের মানুষ। প্রায় প্রতিটি বুথেই কেন্দ্রীয়বাহিনী থাকলেও পুলিশ প্রশাসন যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে ভোটপর্ব সম্পন্ন করায় পুলিশ প্রশাসনকে এলাকার আপামর মানুষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
বিগত কয়েক দশক ধরে একশ্রেণির দুস্কৃতীদের লাগামছাড়া সন্ত্রাস কালিয়াচকে নিরবাচনকে কার্যত প্রহসনে পরিণত করেছিল। প্রায় সারা বছর ধরেই ওই দুস্কৃতীরা খুন, অপহরণ, তোলাবাজি, বেআইনি অস্ত্রের কারবার, জালনোটের কারবার সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে এলাকায় অশান্তির আবহ তৈরি করে রাখত। গত কয়েক বছর ধরে সেই অবস্থার পরিবর্তন হতে থাকে। কুখ্যাত দুস্কৃতীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। কালিয়াচক থানার বর্তমান আইসি আশিস দাসের নেতৃত্বেও পুলিশের সেই কাজ অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিতভাবে পুলিশি আভিযানের ফলে বেআইনি কাজে অনেকটাই রাশ টানা সম্ভব হয়েছে। বেশিরভাগ দুস্কৃতী জেলবন্দি অথবা এলাকাছাড়া। ফলে কোনোরকম অশান্তি ছাড়াই মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন। সুজাপুর, গয়েশবাড়ি, বামনগ্রাম, জালুয়াবাধাল, নওদা যদুপুর, মোজমপুরের মতো অশান্ত এলাকায় সমাজবিরোধীদের তাণ্ডবে ভোটের দিন মানুষ ভয়ে ঘর থেকে বের হতে সাহস পেতেন না। তবে এবার লোকসভায় এই সমস্ত এলাকার মানুষরা শান্তিতে ভোট দিতে পারায় পুলিশ প্রশাসনের ওপর বেজায় খুশি। মোজমপুরের সাহাদাত হোসেন, দারিয়াপুরের আব্দুল জাব্বার, নয়াবস্তি গ্রামের আসির শেখ, গয়েশবাড়ির আব্দুস সুকুর, সুজাপুরের আসাহাক শেখ বলেন, এর আগের পঞ্চায়েত ভোটে তাঁরা ভোট দিতে পারেননি। এবারের লোকসভায় কালিয়াচক থানার পুলিশের প্রহরার ফলে তাঁরা ভোট দিতে সক্ষম হয়েছেন।
কালিয়াচকের বহু মানুষের অভিযোগ, বিগত বাম আমলে রাজনৈতিক স্বার্থেই দুস্কৃতীদের প্রশ্রয় দেওয়া হত। ভোটের সময় ওই দুস্কৃতীরা বুথ দখল, ছাপ্পা ভোট দিয়ে বহু প্রার্থীকে জয়ী করেছে। সাধারণ ভোটারদের আতঙ্কিত করতে ভোটের দিন অশান্তি তৈরি করেছে। নিরবাচন থেকে শুরু করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহু চেষ্টা করেও ওই দুস্কৃতীদের বাগে আনা সম্ভব হয়নি। বাম জমানার পতনের পর এই দুস্কৃতীরা তৃণমূলে নাম লেখায়। শাসকদলের ছত্রছায়ায় থেকে তারা তোলাবাজি থেকে শুরু করে অবৈধভাবে জমি দখল, বিচারের নামে টাকা তোলার মতো অনৈতিক কাজ শুরু করে। এর ফলে গত বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের দিক থেকে সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেন। বিধানসভা ভোট মিটতেই ফের পুলিশ প্রশাসন সমাজবিরোধীদের দমন করতে নেমে পড়ে। পুলিশের অভিযানে জাকির শেখ, বকুল শেখ, আসাদুল্লাহ বিশ্বাসের মতো অনেককেই পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন জামিনে ছাড়া পেলেও পুলিশি সক্রিয়তার কারণে ভোটের আগে নীরবই থেকেছে। এর ফলেই মানুষ শান্তিতে ভোট দিতে পেরেছেন। পুলিশের এই ভূমিকায় খুশি সাধারণ মানুষ।
গয়েশবাড়ি পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান আনজার আলি বলেন, পুলিশের উদ্যোগে কালিয়াচকে শান্তি ফিরেছে। সাধারণ মানুষ তাই শান্তিতে ভোট দিতে পেরেছেন। সুজাপুরের বাসিন্দা বিশু শেখ বলেন, কালিয়াচক থানার আইসির কাজে তাঁরা খুশি। কালিয়াচক -১ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মুসলিম আলি কালিয়াচকে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের দীর্ঘদিন ধরে অশান্ত থাকা কালিয়াচকে শান্তি ফিরে এসেছে। সেই কারণেই মানুষ এবার শান্তিতে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।