কুমারগঞ্জ কাণ্ডে পুলিশি ভূমিকায় ক্ষোভ জাতীয় এসসি এসটি কমিশনের প্রতিনিধিদলের

বালুরঘাট, ১২ জানুয়ারি ––– কুমারগঞ্জে মৃত ছাত্রীর পরিবারের খোঁজ নিতে তাঁর বাড়িতে পৌছালেন জাতীয় তপশিলি জাতি আয়োগের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। রবিবার দিল্লি থেকে ওই প্রতিনিধিদল দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে মৃত নাবালিকার বাড়িতে যান। বাড়িতে তালাবন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁরা কথা বলতে পারেননি। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে কথা বলে প্রতিনিধি দলের সদস্য ডঃ যোগেন্দ্র পাসোয়ান জেলা পুলিশ সুপারকে দ্রুততার সাথে তাঁদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে এক সপ্তাহের মধ্যে ঘটনার চার্জশিট পেশ করার কথা বলেছেন তিনি। পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ায় পুলিশের কোন গাফিলতি দেখলে জাতীয় কমিশন রাজ্যের ডিজি, হোম সেক্রেটারী, জেলাশাসক সহ পুলিশ সুপারকে তলব করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল।
গত সোমবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের সাফানগর এবং অশোকগ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় কালভার্টের নিচ থেকে থেকে নগ্ন অবস্থায় উদ্ধার হয় পুড়ে যাওয়া মৃতদেহ। ঘটনার পরেই প্রতিবাদের আগুন জ্বলে ওঠে জেলা জুড়ে। দোষীদের ফাঁসির দাবি জানিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং গণসংগঠনের পক্ষ থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুলিশ ঘটনার মূল অভিযুক্ত সহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার বালুরঘাটে প্রশাসনিক ভবনে জেলা প্রশাসনের তরফে আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান মৃত কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা। এদিন তাঁদের সাথে দেখা করতে গিয়ে বাড়িতে তালা বন্দি দেখে খানিকটা রুষ্ঠ হয়েছে জাতীয় তপশিলি জাতি আয়োগের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। সঙ্গে ছিলেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার সহ জেলা পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত প্রমুখ ।
জাতীয় তপশিলি জাতি আয়োগের সদস্য ডঃ যোগেন্দ্র পাসোয়ান জানিয়েছেন, এই ঘটনায় জড়িতদের আইনিভাবে কঠোর সাজার ব্যবস্থা করতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে এই মামলায় এসসিএসটি ধারা ৩২৫ এবং ৩১ডাব্লু২ যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। ঘটনা নিয়ে জেলাশাসক, জেলা পুলিশ সুপার সহ প্রশাসনের আধিকারিদের সাথে বৈঠক করা হয়েছে ।