বৈষ্ণবনগর দখলে আশাবাদী কংগ্রেস নেতা আজিজুল হক

জুলফিকার আলি— মালদা জেলার বৈষ্ণবনগর আসনটি নিয়ে এবার যথেষ্ট আশাবাদী এলাকার কংগ্রেস নেতা আজিজুল হক। গতবছর এই আসনে বিজেপি প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু এলাকার উন্নয়নে তিনি  কোনো কাজ করতে পারেননি বলে অভিযোগ অনেকের। ফলে অনেকের মধ্যে বিজেপির প্রতি ক্ষোভ রয়েছে। এছাড়াও এবার মিমের মতো দল বৈষ্ণবনগর ছাড়াও জেলার একাধিক আসনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি শুরু করেছে। মিমের লক্ষ্য এখানকার সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক। কিন্তু তাদের এই আশা পূরণ হবে না। এখানকার মানুষ মূল রাজনৈতিক দলগুলির পাশেই থাকবে। এই আসনটি এবার কংগ্রেস দখল করবে তিনি আশাবাদী।জেলার সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে ফাটল ধরাতে উদ্যোগী হয়ে মাঠে নেমে পড়েছে মীম এব্ং সংখ্যালঘু সংগঠনের কিছু নেতা।  সুত্রের খবর মালদা জেলা তথা কালিয়াচকের বিভিন্ন এলাকায় তাঁরা সক্রিয় আছেন।তাঁদের এই চেষ্টাকে অবশ্য আমল দিতে নারাজ জেলার মূলধারার রাজনৈতিক দলের  নেতৃত্ব থেকে শুরু করে ব্লকের সংখ্যালঘু সমাজের মানুষজন। তাঁদের দাবি, বিজেপির সুবিধা করে দিতেই সংখ্যালঘু সমাজের মধ্যে ভাঙন ধরাতে চেষ্টা করছে।তবে তাঁদের এই চেষ্টা সফল হবে না। কালিয়াচকের বিভিন্ন প্রান্তের মতো বৈষ্ণবনগর বিধানসভা আসনটিতে একদিকে যেমন সংখ্যালঘু মানুষজনেরা রয়েছেন, তেমনই সংখ্যাগুরু ভোটব্যাংকও নেহাত কম নয়। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে ত্রিমুখী লড়াই হয়েছিল। কংগ্রেস এবং তৃণমূলের পক্ষে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক ভাগ হয়ে যায়।যার সুফল ঘরে তোলে বিজেপি। বিজেপি প্রার্থী স্বাধীন সরকার এই আসনে জয়লাভ করেন। কিন্তু ভোটে জিতলেও এই এলাকার মানুষের জন্য তিনি কিছুই করেননি বলে অভিযোগ। ভাঙন কবলিত এলাকায় যখন গঙ্গার ভাঙনে মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছেন, তখন দেখা পাওয়া যায়নি বিধায়কের।এমনকি এলাকার রাস্তাঘাট, পানীয় জল থেকে শুরু করে সামগ্রিক উন্নয়নে তিনি নিস্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন। ফলে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে সমাজের মূল ধারার দলগুলি এখন থেকেই মাঠে নেমে পড়েছেন। এমনকি প্রায় অর্ধেক সংখ্যালঘু ভোটকে পাখির চোখ করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে মিম। তবে এই এলাকার মানুষ কখনোই আর ভুল করে অন্য দলকে সমর্থন করবে না। এর আগে কংরেসের বিধায়ক থাকাকালীন ইশা খান এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। কিন্তু বিজেপি প্রার্থী জয়ী হলেও মানুষের জন্য কোনো কাজ করেননি। এছাড়াও এই ব্লকের মানুষ কোনো সাম্প্রদায়িক দলকে প্রশ্রয় দেয় না। বৈষ্ণবনগরের কংগ্রেস নেতা আজিজুল হক বলেন, ইশা খান চৌধুরী কংগ্রেসের বিধায়ক থাকাকালীন বৈষ্ণবনগরের রাস্তাঘাট, পানীয় পাল, শিক্ষা স্বাস্থ্য সহ সামগ্রিক উন্নয়নে ব্যাপক জোর দিয়েছিলেন। এছাড়া ভাঙন কবলিত মানুষের পাশেও তিনি দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু বিজেপির বিধায়ক গত পাঁচ বছরে মানুষের পাসে দাঁড়াননি। এছাড়া কোনো সাম্প্রদায়িক দল এই এলাকায় থাবা বসাতে পারবে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই আসনে এবার কংগ্রেস প্রার্থীই যে জয়লাভ করবেন, সে বিষয়ে আমি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত।