GST-র প্রভাবে সংকটের মুখে কালিয়াচকের রেশম শিল্প

GST চালু হওয়ার পর থেকে দেশের ঐতিহ্যশালী রেশম চাষ আজ সঙ্কটের মুখে । রুজি রোজগার হারাতে বসেছে মালদহ জেলার প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ ।রাজ্য সরকার রেশম চাষ বৃদ্ধির জন্য নানান প্রকল্প চালু করলেও উৎপাদিত রেশমগুটি ও সুুতোর সঠিক দাম না পাওয়ায় হতাশ মালদা জেলার রেশম চাষীরা ।বিগত বছরে অগ্রহায়ন মরশুম ও ফাগুনী মরশুমে মালদা জেলায় ব্যপক রেশমগুটির উতপাদন হয় । কিন্তু নায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ রেশম চাষীরা । কালিয়াচক রেশমগুটি বাজারে গুটি বিক্রি করতে এসে বিপাকে পড়ে যায় রেশম চাষীরা ।এর আগে রেশমগুটির দাম ছিল ১৫-১৮ হাজার টাকা মন প্রতি যা এ বছর নেমে এসেছে ৮-১০ হাজার টাকা মন প্রতি। রেশমচাষীদের দাবি GST চালু হওয়ার পরে থেকেই রেশম সুুতার দাম কমতে শুর করেছে । ফলে বিপাকে হাজার হাজার রেশমচাষী । বর্তমান করুণ অবস্থা থেকে রেশমগুটি উৎপাদকদের উদ্ধারের আশায় মুখ্যমন্ত্রী দ্বারস্থ হতে চলেছে চাষীরা ।নবিনগরের প্রগতিশিল রেশম চাষী মোতিউর রহমান বলেন ,তার পরিবার রেশম চাষের উপর নিরর্ভশীল ।
কিন্তু GST চালু হওয়ার পর থেকে দিনের পর দিন রেশমগুটির দাম নিম্মগামি হওয়ায় তারা এখন বিপাকে পড়ে গেছে ।নিজের সংসার চালানো বড়ই মুশকিল হয়ে পড়েছে । সঙ্কট থেকে উদ্ধার করতে
মুখ্যমন্ত্রী র কাছে আবেদন রাখছেন ।অন্যদিকে খিখিরবোনা গ্রামের মশিদুর রহমান নামের যুবক রেশমগুটি ব্যবসায়ী বলেন তিনি বিগত অগ্রহায়ন ও ফাগুনী মরশুমে প্রায় ১০০ মন রেশমগুটি খরিদ করেছেন । কিন্তু দাম অর্ধেক হয়ে যাওয়ায় প্রচুর টাকা লোকশান দিয়ে তার ব্যবসায় উঠে গেছে ।উত্তর দারিয়াপুরের রেশম লাটগুটি ব্যবসায়ী বাসিরুদ্দিন বলেন GST চালু হওয়ার ফলে তাকে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা লোকশান দিতে হয়েছে ।এভাবেই বহু রেশম ব্যবসায়ী ব্যবসা হারিয়ে পথে বসে গেছে ।
বর্তমান দেশের মোট রেশম উৎপাদনের আট শতাংশ উৎপাদিত হয় মালদা জেলায়।
রাজ্যের পরিসংখ্যানে যা আশি শতাংশ। আম, জেলার প্রধান বাণিজ্যিক ফসল হিসেবে নামডাক পেলেও পিছিয়ে নেই রেশমও। জেলার দ্বিতীয় প্রধান বাণিজ্যিক ফসল হিসেবে উচ্চারিত হয় রেশমের নামই। একটি ছোট্ট পরিসংখ্যান তার অন্যতম প্রমাণ। এই জেলার প্রায় ষাট হাজার পরিবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রেশম শিল্পের জঙ্গে জড়িত। বর্তমান রেশম চাষ চলছে জেলার পনেরোটি ব্লকেই। তবে সিংহভাগ চাষ হয় কালিয়াচকের তিনটি এবং চাচঁল, হরিশচন্দ্রপুর-এর দুটি করে ব্লকে। রেশম শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পরিবারের সংখ্যা ৬২ হাজার । কীটের ডিম উৎপাদন করার কাজে নিযুক্ত রয়েছেন ২৪৯ জন। বছরে উৎপাদিত গুটির পরিমাণ ১৫০০০ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক বাজার মল্য ৩০০ কোটি টাকা। তা দিয়ে উৎপাদিত হয় ১১৫০ মেট্রিক টন রেশমী সুুতো। রেশম গুটি থেকে সুুতো নিম্মমানের কাজে যুক্ত রয়েছেন ৫ হাজার জন।
শতাব্দী প্রাচীন এই শিল্প সত্যিই মালদাবাসীর গর্ব। কালের প্রভাবে অনেক শিল্প অবলুপ্ত হয়ে গেলেও রেশমের ক্ষেত্রে সেই অঘটন ঘটেনি। সময়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে মানুষের আর্থসামাজিক পরিবর্তন । তাই প্রাচীন এই ঐতিহ্যকে সুুনামের সঙ্গে টিকিয়ে রাখতে গেলে এই শিল্পেও সমকালীন বিবর্তন অত্ন্যত জরুরি । কারণ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এক দিকে মানুষের যেমন রুচির পরিবর্তন হয়েছে, তেমনই বিভিন্নভাবে কর্ম সংস্থান-এর সুুযোগ বাড়ায় আয়ের পরিধিও অনেক বেড়েছে।’ তাই বহু শতাব্দীপ্রাচীন এই শিল্পের উন্নতির জন্য উন্নত প্রযুক্তির ব্যহারের উপর জোর দিতে হবে । জি এস টির প্রভাব থেকে মুক্ত করে শতাব্দীপ্রাচীন এই শিল্পকে রক্ষা করতে রাজ্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে ।