সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখে বিদায়ী কাউন্সিলরের তোপের মুখে পড়েছেন মাস্টার ডিগ্রী পাস করা এক ছাত্রী

জুলফিকার আলি-এলাকায় বৃষ্টির জল জমে বাড়িতে ঢুকছে। বেআইনিভাবে জলা জমি ভরাটের কারণে নিকাশি নালা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ছে। এমনই-কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখে  বিদায়ী কাউন্সিলরের তোপের মুখে পড়েছেন মাস্টার ডিগ্রী পাস করা এক ছাত্রী । পেশায় সঙ্গীতশিল্পী ওই যুবতী এখন স্থানীয় কাউন্সিলর ও তার দলবলের হুমকি রোষের মুখে পড়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।যদিও এলাকার কাউন্সিলরের পাল্টা বক্তব্য, আমার সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর কিছু কথা লিখেছিল ওই মহিলা। তারই প্রতিবাদ আমি জানিয়েছি। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছি। যদিও বিদায়ী কাউন্সিলরের হুমকির অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে ওই যুবতীও ইংরেজ-বাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন । অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগের জেরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে মালদা শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মালঞ্চ-পল্লী  এলাকায়।ঈপ্সিতা পাল নামে ওই যুবতীর বাড়ি তিন নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণ-পল্লি কৃষ্ণ-পাল পাড়া এলাকায়। ওই যুবতীর অভিযোগ,  জলা জমি বেআইনিভাবে ভরাটের বৃষ্টির জল জমে নিকাশি নালা বন্ধ হয়ে গিয়েছে । বাড়িতে সাপ , পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ছে। এনিয়ে কিছু কথা আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলাম। তাতেও বলেছিলাম এলাকার কাউন্সিলর কোন কাজ করছে না। এরপরে রবিবার আমার বাড়িতে স্থানীয় বিদায়ী  কাউন্সিলর পরিতোষ চৌধুরী দলবল নিয়ে চড়াও হয়। আমাকে হুমকি দেয় এলাকাছাড়া করে দেওয়ার । এরপর আমার বিরুদ্ধে অশালীন কথাবার্তা বলা হয়।ঈপ্সিতা পাল নামে ওই যুবতীর আরো অভিযোগ, বাড়িতে বিদায়ী কাউন্সিলর দলবল নিয়ে এসে যখন হুমকি দিচ্ছিল, তখন আমি বিদায়ী কাউন্সিলরকে বলেছিলাম আমার কোন দোষ থাকলে, ক্ষমা করে দিন। কিন্তু উনি আমাকে পা ধরে ক্ষমা চাইতে বলেন। এরপরেও আমাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়। বাড়ি ছাড়ার করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আমার বাবা  অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী। এখন আমি এই হুমকির জেরে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি। এরপরই সোমবার ইংরেজ-বাজার থানায় বিদায়ী  কাউন্সিলর পরিতোষ চৌধুরী বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।এদিকে তিন নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী  কাউন্সিলর পরিতোষ চৌধুরীর পাল্টা অভিযোগ, ওই মহিলার চরিত্র ভালো নয় । পাড়ার মানুষেরাই ওই মহিলার আচরণে ক্ষিপ্ত । আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে মাটি ভরাটের অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছে। এটা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না । ওই মহিলার আচরণও ভালো নয়। পাড়ার লোকজনও বিষয়টি ভালোভাবে মেনে নেয় নি । একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর কথা কেন সোশ্যাল মিডিয়ায় উল্লেখ করা হলো, সেটাই জানতে চেয়েছিলাম । কিন্তু আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। আমি ওই মহিলা এবং তার এক বন্ধুর বিরুদ্ধে  সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ জানিয়েছে। পাশাপাশি পাড়ার কিছু মহিলারাও ওই মহিলার বিরুদ্ধে ইংরেজ-বাজার মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে।ইংরেজ-বাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে ।